Barak UpdatesHappeningsBreaking News

কণাদ-দীপায়নের উপস্থিতিতে বরাক বঙ্গের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের শিলান্যাস

ওয়েটুবরাক, ২৭ জানুয়ারি: বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের তিন জেলাসদরে  তিনটি বঙ্গভবন রয়েছে। সেগুলি আসলে সংশ্লিষ্ট জেলা সমিতির কার্যালয়। লক্ষীপুরেও রয়েছে একটি বঙ্গভবন। সেটি সেই আঞ্চলিক সমিতির কার্যালয়। ১৯৯৪ সালের অক্টোবরে শিলচরের তারাপুর চাঁদমারি রোডে সরকারি তরফে কেন্দ্রীয় সমিতির নামে ৩ কাঠা ৮ ছটাক জমি মিললেও অফিসঘর নির্মিত হয়নি। বঙ্গভবনগুলিই ছিল অস্থায়ী ঠিকানা। এ বার স্থায়ী ঠিকানা গড়ার পথে পা বাড়াল সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমিতি। জমি পাওয়ার ৩২ বছর পরে সংগঠনের সুবর্ণ জয়ন্তীতে গতকাল ২৬ জানুয়ারি দুপুরে আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস হয় বহুতল ভবনের। শিলান্যাস করেন রাজ্যসভার সদস্য কণাদ পুরকায়স্থ ও বরাক বঙ্গের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক রাধিকা রঞ্জন চক্রবর্তী। পরে এসে এই শুভ কাজের শরিক হন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীও।

সভাপতি রাধিকারঞ্জন নিজে বৈদিক ক্রিয়াকর্ম করেন। পরে শিলান্যাস করেন সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংসদ পুরকায়স্থ এই বহুতল ভবন নির্মাণে তাঁর সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে দশ লক্ষ টাকা প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ভাষা-সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়। বরাক বঙ্গ এই আত্মপরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিধায়ক চক্রবর্তী জানান, মাসদুয়েকের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে এখন আর বিধায়ক তহবিলের অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আপাতত তিনি তাঁর বেতন থেকে এক লক্ষ টাকা দেবেন এবং পরবর্তীতে দলীয় মনোনয়ন ও  জনগণের আশীর্বাদে নির্বাচিত হলে তহবিল থেকে দশ লক্ষ টাকা দেবেন। বরাক বঙ্গের কেন্দ্রীয় কার্যালয় একেবারে তাঁর নিজের পাড়ায় হতে চলেছে বলে তিনি উচ্ছাস প্রকাশ করেন।

বরাক বঙ্গের শিল্পীদলের উদ্বোধনী সঙ্গীতের পর স্বাগত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত বলেন, কবীন্দ্র পুরকায়স্থ সাংসদ থাকার সময় এই জমির সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এখন তাঁরই সুযোগ্য পুত্রের হাতে এর শিলান্যাস হলো। কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও এই বহুতল ভবনে দূর শিক্ষা কেন্দ্রের ক্লাসরুম, গ্রন্থাগার ইত্যাদি তৈরির পরিকল্পনার কথা শোনান সাধারণ সম্পাদক দত্ত। সংগঠনের জেলা কমিটির সাবেক সাবেক সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরী এই সভাতেই প্রস্তাব দেন, এখানে যেন একটি অতিথিশালাও নির্মিত হোক।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আরেক প্রাক্তন জেলা সভাপতি দীনেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বাস, বর্তমান জেলা সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্কর, জেলা সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker