Barak UpdatesHappeningsBreaking NewsFeature Story
এ যেন কপ্টার নিয়ে খেলছিলেন পাঁচ পাইলট! বরাকে এই প্রথম! লিখেছেন উত্তমকুমার সাহা

//উত্তমকুমার সাহা//
সবুজ পাহাড়কে পাশে রেখে সারং কপ্টার বাহিনী কখনও কুম্ভীরগ্রামের আকাশ সাজিয়ে দিল তেরঙায়, কখনও সাদা ধুয়োয় নীল আকাশে এঁকে দিল ভালবাসার হৃদ-চিহ্ন। চড়া লাল রঙের পাঁচ কপ্টার কখনও একের পেছনে আরেক সারিবদ্ধ ভাবে উড়ে চলে। কখনও-বা এগোয় একেবারে গা ঘেষে । একবার ডলফিনের চেহারা নিচ্ছে, তো পরক্ষণেই ডায়মন্ডের দ্যুতি ছড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এক সময় পাঁচ কপ্টার শিলচর কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দরে এমন খেলায় মেতে ওঠে যে মনে হচ্ছিল, এই বুঝি ধাক্কা লেগে গেল। এ যেন রিমোটে কেউ একসঙ্গে ক-খানা খেলনা বিমান চালাচ্ছেন। বিশাল ক্যানভাসে কপ্টার নিয়ে পাঁচ পাইলটের এমন ছবি আঁকা শিশু-কিশোর তো বটেই, সব বয়সী মানুষকে পুলকিত করে। হাততালি আর থামতে চায় না।

পরে পাইলটদের নাগালের মধ্যে পেয়ে উত্তেজনায় ফুটতে থাকে কিশোর-কিশোরীরা। কেউ সেলফির আব্দার করে, কেউ-বা অটোগ্রাফের জন্য এগিয়ে দেয় নোটবুক। গোকুল-নিশাঙ্করা কিছু সময় কাটিয়ে চলে গেলেও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পল্লবীকে কিছুতেই ছাড়তে নারাজ তারা। যাদের সঙ্গে নোটবুক নেই, হাত এগিয়ে দেয়, সেখানেই নিজের স্বাক্ষর দেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
দুই সহকর্মী গোকুল-নিশাঙ্ককে পাশে বসিয়ে পরে পল্লবী সাংবাদিকদের জানান, তাঁরাই বিশ্বের একমাত্র হেলিকপ্টার অ্যারোবেটিক বা এয়ার ডিসপ্লে দল, যাদের পাঁচটি রাষ্ট্রীয় কপ্টার রয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই ১৫১ নং হেলিকপ্টার ইউনিটটি সারং কপ্টার বাহিনী নামেই পরিচিত। ২০০৩ সালে এই টিম গঠন হয়। দুই বছর আগেও তাদের কাছে ৪টি কপ্টার ছিল। ২০২৩ সালে আরও এক কপ্টার যোগ দেয় এই দলে। সবকটি হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড নির্মিত।
তামিলনাড়ুর সুলুর এয়ারফোর্স স্টেশন থেকে গুয়াহাটি, শিলঙে কয়েক দফায় এলেও বরাক উপত্যকায় সারঙের এই প্রথম প্রদর্শন। ভারতীয় বায়ুসেনার ৯৩- তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী, এনসিসি ক্যাডেট, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের সামনে বৃহস্পতিবার থেকে চলে তিনদিনের এই প্রদর্শনী।
তবে সারং শুধুই এয়ার ডিসপ্লে করে না, বন্যা বা এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁরা ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন, জানালেন পাইলটরা।
কিন্তু কী করে কপ্টার নিয়ে এমন খেলা খেলেন? নিশাঙ্কের জবাব, এক্ষেত্রে দুটো বিষয় কাজ করে, পেশাদারি মনোভাব এবং অ্যাডভাঞ্চারের টান। গোকুল যোগ করেন, ‘‘সবার আগে চাই নিষ্ঠা। চ্যালেঞ্জ আসবে, এর মোকাবিলা আমাকেই করতে হবে, এ ব্যাপারে দৃঢ়চেতা হতে পারলেই অ্যারোবেটিকসে সফল হওয়া যায়।’’ পল্লবীর কথায়, ‘‘আমাদের কাজের প্রতিটি মুহূর্ত যেমন স্মরণীয়, তেমনি চ্যালেঞ্জিং।’’

আচমকা এ বার উত্তর-পূর্বে কেন এমন প্রদর্শনী ? পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও কোনও বিশেষ বার্তা? মুখ খুললেন না কেউই। পাইলটরা শুধু বললেন, ‘‘দেশে তৈরি কপ্টার ‘ধ্রুব’র কসরত দেখানোই লক্ষ্য আমাদের।’’



