Barak Updates
উইমেন্স কলেজে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করলো মালতী শ্যাম উইমেন্স স্টাডি সেন্টার

ওয়েটুবরাক, ১১ মার্চ: সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হল শিলচর উইমেন্স কলেজে। সোমবার উইমেন্স কলেজের মালতী শ্যাম উইমেন্স স্টাডি সেন্টার ও এনএসএস শাখার যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রধান ভাগে ছিল মালতি শ্যাম উইমেন্স স্টাডি সেন্টারের ষান্মাসিক পত্রিকা, উত্তরণের দ্বিতীয় সংখ্যার উন্মোচন।
সেন্টারের আহবায়ক ডঃ সরিতা ভট্টাচার্য স্বাগত ভাষণে বলেন, উইমেন্স স্টাডি সেন্টারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মালতি শ্যামের আদর্শে নারীদের জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা এবং আগামীতে উত্তরণ পত্রিকাটি নারী বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ভিত্তিক লেখা প্রকাশিত করার প্রয়াস নিয়ে ব্রতী থাকবে। পরবর্তীতে কলেজের অধ্যক্ষ ড. সুজিত তেওয়ারি প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ভারত ভূমির বিভিন্ন নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে প্রাচীনকাল থেকে গার্গী, খনা এবং আধুনিক যুগে মিসাইল ওমেন সহ ভারত ভূমি এর বিভিন্ন নারীদের অবদানের কথা তিনি আরো বলেন যে নারীদের উন্নতি হলেই সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নতি হবে।
উত্তরণ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর পক্ষ থেকে ড. সুস্পিতা দাস বক্তব্য রাখেন। ডঃ দাস পত্রিকার সব লেখকদের নারী বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে উত্তরণ পত্রিকাটি আরও বৃহৎ কলেবরে নিজের পরিচিতি তুলে ধরবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে মালতি শ্যামের পৌত্রি চন্দ্রিমা শ্যাম বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁর কথায়, নারীদের রবীন্দ্র সংগীত “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে” মন্ত্রটি নিজেদের জীবনে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি শিলচর মেডিকেল কলেজের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিরিশা রাও চক্রবর্তীর বক্তব্য। তিনি নারীর স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বোধ নিয়ে তার সারগর্ভ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ডক্টর রাও চক্রবর্তী নারীদের স্বাস্থ্য বিষয় সচেতনতা গড়ে তুলতে অনুরোধ করেন এবং বলেন, ১৮ বছর বয়সের কম মেয়েরা যেন মাতৃত্বের ঝুঁকি না নেয় এবং সারভিক্যাল ক্যান্সারের প্রতিরোধের জন্য মেয়েদের ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আলোকপাত করেন।
কলেজের ছাত্রীরা অতিথি বক্তার সঙ্গে নিজেথেরদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সর্বাণী বিশ্বাস অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন।


