Barak UpdatesHappeningsBreaking News
আসাম বিজ্ঞান সমিতি শিলচর শাখার আত্মপ্রকাশ, সভাপতি পার্থঙ্কর, সচিব বিশ্বজিৎ

ওয়েটুবরাক, ২৪ নভেম্বর : আত্মপ্রকাশ হল আসাম বিজ্ঞান সমিতি শিলচর শাখার। গত শনিবার কাছাড় কলেজের কনফারেন্স হলে এই শাখা গঠনের উদ্দেশ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ তাতে সভাপতিত্ব করেন । এই সভায় উপস্থিত ছিলেন আসাম বিজ্ঞান সমিতির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তথা আসাম বিজ্ঞান সমিতি করিমগঞ্জ শাখার প্রাক্তন সভাপতি ড. নির্মল কুমার সরকার।
ড. অপ্রতিম নাগ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে কাছাড় জেলার মধ্যে আসাম বিজ্ঞান সমিতির একটি শাখা স্থাপনের জন্য উনার সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তাছাড়া এই বিষয়ে তিনি আসাম বিজ্ঞান সমিতির রাজ্য সভাপতি বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিক ড. অরূপ কুমার মিশ্রর আন্তরিক সহযোগিতা এবং ড. নির্মল কুমার সরকারের প্রচেষ্টার উল্লেখ করেন। করিমগঞ্জ কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ও আসাম বিজ্ঞান সমিতি করিমগঞ্জ শাখার প্রাক্তন সভাপতি ড. নির্মল কুমার সরকার সমিতির সংবিধান এবং সাংগঠনিক পদগুলি নিয়ে বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেহেতু শিলচর আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং কাছাড় জেলার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশাসনিক সদর, তাই শিলচরে আসাম বিজ্ঞান সমিতির শাখা স্থাপন করা একান্ত দরকার। এই বিষয়ে তিনি রাজ্য সমিতির প্রাপ্ত মৌখিক অনুমোদন এবং কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশংসা করেন। কাছাড় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ দেবরায় বলেন, আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশে বিজ্ঞান সমিতি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এই সমিতির শিলচর শাখা বিজ্ঞানের সুদূর প্রসারে কাজ করতে সংকল্পবদ্ধ। তিনি যারা সমিতির আজীবন ও বার্ষিক সদস্যপদ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন যে, “আমাদের যুব প্রজন্মের গবেষণামূলক প্রকল্পগুলি যদি সঠিক বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা ও আর্থিক অনুদান পায় তাহলে আমাদের অনেক স্থানীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব । এই সমিতিতে অনেক বিজ্ঞানের স্বনামধন্য গবেষক আছেন যাদের সঠিক নির্দেশনায় আমরা স্থানীয় এলাকার বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাগুলিকে প্রক্রিয়া এবং পণ্যে রূপান্তর করতে পারব।”
সভায় উপস্থিত থেকে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মানবেন্দ্র নাথ পেটেন্ট নথিভুক্ত পদ্ধতির উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, তাঁর নামে বেশ কয়েকটি পেটেন্ট নথিভুক্ত আছে । অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনিল পাল, ড. সুভাষ দেবনাথ এবং ড. অভিজিত নাথ। উপস্থিত ছিলেন কাছাড় কলেজের বরিষ্ঠ অধ্যাপক কিরিটি ভূষণ দে, ড. সুদীপ কুমার দাস, ড. নিতু দেবনাথ, ড. অভিনয় পাল, ড. নিলম বসুমাতারি, ড. জয়ব্রত নাথ ও ড. বিরুপাক্ষ পালচৌধুরী।
সায়েন্স ট্রায়াল অর্গানাইজেশন, শিলচরের রূপকার এবং বরাক উপত্যকার শিশু-বিজ্ঞান সমারোহের পুরোধা অনিল পাল তাঁর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈক্ষিক নিবন্ধক তথা রসায়নের অধ্যাপক ড. অভিজিৎ নাথ আসাম বিজ্ঞান সমিতির শিলচর শাখা সবার সহযোগিতায় তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুভাষ দেবনাথ তুলে ধরেন গণ বিজ্ঞান আন্দোলনের কথা।

ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আসাম বিজ্ঞান সমিতি শিলচর শাখার পদাধিকারীদের নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন বিশিষ্ট-পরিবেশবিদ, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থান পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. পার্থঙ্কর চৌধুরী। কার্যকরী সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় কাছাড় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. মুকুল কুমার বড়ুয়াকে। তাঁর সঙ্গে তিনজন সহসভাপতি নিযুক্ত হন তারা হলেন, ড. গুণাকর দাস (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গভর্মেন্ট-কলাশিব কলেজ, মিজোরাম), ড. অভিজিৎ নাথ (অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ড. অভিজিত সাহা (অধ্যক্ষ, ডিএনএনকে গার্লস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়)। সচিব পদে নির্বাচিত হন কাছাড় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ দেবরায়। সহ-সচিবরা হলেন নরসিং উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক মৃণাল কান্তি দে এবং কাছাড় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শ্বেতস্মিতা নাথ। কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করা হয় কাছাড় কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. গায়ত্রী ঘোষকে। তাছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট এগারজনকে নিয়ে কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।
বর্তমানে সমিতিতে ১৫ জন আজীবন সদস্য, ১৮ জন বার্ষিক সদস্য এবং ৫ জন ছাত্র-সদস্য নিজেদের সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নরসিং উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক ড. সুহাস সুবোধ দে, বিজ্ঞান শিক্ষক শ্রী রাগীব হুসেন এবং ছাত্র-ছাত্রীরা।



