AnalyticsBreaking News

নাগরিকত্ব/২২ঃ নথি থাকলেই আবেদনের সুযোগ, নইলে ট্রাইব্যুনাল
Citizenship/22: Only those who have documents can apply, for rest there is Tribunal

(যৌথ সংসদীয় কমিটির অনুমোদন লাভের পর নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬ গত ৭ জানুয়ারি লোকসভায় পেশ হয়। ধ্বনিভোটে পাশও হয়ে গিয়েছে এটি। এ বার রাজ্যসভায় ওঠার কথা ছিল। শেষপর্যন্ত তা আনাই হয়নি। তবে সংসদে সুযোগ না থাকলেও বাইরে এ নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকবে। এই প্রেক্ষিতে যৌথ সংসদীয় কমিটি যে ৪৪০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট দিয়েছে, ওয়েটুবরাক পুরো রিপোর্ট ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে চলেছেআজ এর ২২-তম কিস্তি।)

৬ মার্চঃ ২.১১ বিল বা মূল আইনে ধর্মীয় নির্যাতন (রিলিজিয়াস পারসিকিউশন) শব্দটি ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাইলে পরিষদীয় বিভাগ স্পষ্টীকরণ দেয়, ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তির আধারেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে।

২.১২ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ও ২০১৬ সালের ১৭ জুলাইর বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

২.১৩ বিদেশের মাটিতে ধর্মীয় নির্যাতন হল কি না, সরকার তা কী করে নিশ্চিত হবে, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য এবং মুদ্রিত বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সংবাদের সাহায্যেই বিদেশের মাটিতে ধর্মীয় নির্যাতন হয়েছে কিনা বোঝা যাবে।

২.১৪ নিজের দেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়েই ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করল কি না, এই প্রেক্ষিতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো জানায়, কয়েক দশক আগে, মূলত দেশভাগের পরই, যারা ভারতে এসেছেন এবং ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে ভারতীয় নাগরিকত্ব চাইবেন, তাদের দাবির সত্যতা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। কারণ তখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অনুপ্রবেশ ঘটে। তবে সাম্প্রতিক কালের কোনও ঘটনায় তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আগেই তা নিশ্চিত করা যাবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তৈরি স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিউরে বলা হয়েছে, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নির্যাতনের ভয়ে ভারতে এসেছেন বলে দাবি করে যারা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাবেন, তাদের উপযুক্ত নথিপত্র সঙ্গে দিয়ে একটি হলফনামা প্রদান করতে হবে। নির্দিষ্ট ফরেনার্স রিজিয়নাল রেজিস্ট্রেশন অফিস বা ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিস ওই  দাবির সত্যতা পরীক্ষা করে বিস্তৃত তদন্ত প্রতিবেদন জমা করবে। হলফনামার সঙ্গে যদি নথিপত্র না থাকে, তবে তাঁর আবেদন যাবে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। ধর্মীয় নির্যাতনের দাবি পরীক্ষার জন্যই ওই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে।

২.১৫ ধর্মীয় নির্যাতনের ভয়ে চলে আসার দাবির যথার্থতা কীভাবে বোঝা সম্ভব, এই প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলে, কমিটির কাছে যে সব মৌখিক সাক্ষ্য রয়েছে, তাতেই স্পষ্ট হয়, তিন রাষ্ট্রেই ধর্মীয় নির্যাতনের অভিযোগগুলি যথার্থ।

২.১৬ ভারত সরকার কি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ইস্যুটি নিয়ে কোথাও কথা বলছে, যৌথ সংসদীয় কমিটি তাও জানতে চায়। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানের হিন্দু ও শিখদের উপর কোনও ঘটনা ঘটলেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলে ভারত। পাকিস্তান সরকার বারবারই বলে, তাদের দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ব্যাপার পুরোপুরি তাদের দায়িত্ব।

আফগানিস্তানে অবশ্য ২০০১ সালে নতুন সরকার গঠনের পর এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। বর্তমান সরকার ভারত, ভারতীয়, ভারতীয় মূলের নাগরিক ও হিন্দু-শিখের মত সংখ্যালঘুদের প্রতি বন্ধুত্বের আচরণই করে। কিন্তু ১৯৯০ সালে ২০০১ সাল পর্যন্ত যখন তালিবান সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, তখন অ-মুসলিম এবং মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে, তালিবান সরকার সে কথা মেনে নিত না।

বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্য সময়ে সময়ে ভারত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষা ও তাদের স্বার্থে উন্নয়নমূলক গ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

২.১৭ ধর্মীয় নির্যাতনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল আইনের রূপ নিলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কত মানুষ উপকৃত হবেন, এই প্রশ্নে ইন্টেলিজেটন্স ব্যুরো জানায়, তথ্যমতে ধর্মীয় নির্যাতনের দরুন ভারতে এসে দীর্ঘকালীন ভিসার জন্য আবেদন প্রার্থীর সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১৩। এর মধ্যে হিন্দু ২৫ হাজার ৪৪৭। শিখ ৫ হাজার ৮০৭, খ্রিস্টান ৫৫, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ২ ও পার্সি ২জন। বিলটি আইনে পরিণত হলে তারা প্রথমেই উপকৃত হবেন।

২.১৮ কিন্তু অন্যান্য যে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ওই তিন দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের জন্য ভারতে এসেছেন, কিন্তু দীর্ঘকালীন ভিসার আবেদন করেননি, তাদের কী হবে, এই প্রশ্নে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর বক্তব্য, এই ক্যাটাগরিতে অন্যান্য যারা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন, তাদের ধর্মীয় নির্যাতনের ব্যাপারটা প্রমাণ করতে হবে। কারণ ভারতে এসেই যদি কেউ তা না বলে, তবে পরবর্তী সময়ে তা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিলের প্রেক্ষিতে যে সব আবেদন জমা পড়বে, র-র সঙ্গে আলোচনা করেই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker