Barak UpdatesHappeningsBreaking News
পরাজয়ের সেঞ্চুরি করবে কংগ্রেস, ভবিষ্যদ্বাণী মোদির

ওয়েটুবরাক, ১৪ মার্চঃ শিলচর থেকে কংগ্রেসকে সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অসমের মানুষকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানান। সঙ্গে প্রশংসা করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন সরকারের।
আজ স্বাধীনতাপূর্ব বরাকের কথাও স্মরণ করতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। মোদি বলেন, আগে এই অঞ্চল শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কংগ্রেস এমনভাবে দেশভাগ করেছে যে, বরাক সামুদ্রিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরাই এখানকার ঔদ্যোগিক পরিচিতি কেড়ে নিয়েছে।
তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, এই দাবি করে মোদি বলেন, বিজেপি বরাক উপত্যকাকে ‘লজিস্টিক ও ট্রে়ড হাব’ বানানোর লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এরই অঙ্গ হিসেবে আজ ২৪ হাজার কোটি টাকার এক্সপ্রেস হাইওয়ের শিলান্যাস করা হয়েছে।
শিলচরের সভা থেকে কংগ্রেসকে পরাজয়ের সেঞ্চুরি করবে বলেও কটাক্ষ করেন মোদি। কংগ্রেসিদের কাছে জানতে চান, ২৪ হাজার কোটি লিখতে কতগুলো শূন্য লাগে।
তাঁর কথায়, কংগ্রেস বহু বছর উত্তর-পূর্বকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, বরাক উপত্যকাকে করেছিল অবহেলা। বেহাল অবস্থা ছিল এখানকার।
ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও শিল্পের জন্য বরাক উপত্যকার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ এখানে সদ্ভাবের সঙ্গে বসবাস করছেন, বক্তব্যের শুরুতেই বাংলায় এমন প্রশংসা শোনা গিয়েছে মোদির মুখে। তাঁর কথায়, দক্ষিণ এশিয়াকে জুড়ে রাখার সেতুবন্ধ হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারত। বরাক উপত্যকা সেই উত্তর-পূর্বের ‘লজিস্টিক ও ট্রেড হাব’ হতে চলেছে। তাতে কর্মসংস্থান বাড়বে। লাভবান হবে মিজোরাম, মণিপুর, ত্রিপুরাও। কারণ পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ, মায়ানমার। ফলে বিশাল বাজারে জুড়ে যাবে এই বৃহত্তর অঞ্চল।
প্রধানমন্ত্রী আজ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন চা শ্রমিকদের কথা। বলেন, দুইশো বছর ধরে অসমের চা বাগানে শ্রম বিনিয়োগের মাধ্যমে এই রাজ্যের সোনালি ভবিষ্যত গড়ে তুলেছেন। তাই তাদের জমির পাট্টা প্রদানকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, পাট্টা মিললেই সম্মান বাড়ে, অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।
শুক্রবার দুইদিনের অসম সফরে আসেন নরেন্দ্র মোদি। দ্বিতীয় দিনে বিশেষ বিমানে গুয়াহাটি থেকে শিলচরের কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে কপ্টারে আসেন চন্দ্রপুর-বুধুরাইল সভাস্থলে। সেখান থেকেই অসমের জনতাকে কংগ্রেস থেকে সাবধান থাকতে বলে গেলেন তিনি।
এআই সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে যে কংগ্রেস যে জামাকাপড় খুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, সে প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, কংগ্রেসের কাছে জামা ছেঁড়া ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই। তাদের দেশবিরোধী বলে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, তাদের কাছে দেশের তো নয়ই, কোনও রাজ্যের মঙ্গলও আশা করা যায় না। যুদ্ধের ভয়াবহ অবস্থায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে পাশে পাবেন বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু এমন জায়গাতেও তারা সরকার বিরোধিতায় মেতেছে বলে তিনি আক্ষেপ ব্যক্ত করেন।



