Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভাষাশহিদদের অবমাননা : থানায় এজাহার দিল ‘বরাকের আওয়াজ’

ওয়েটুবরাক, ২৭ অক্টোবর: আজ সোমবার শিলচর সদর থানায় সামাজিক সংগঠন ‘বরাকের আওয়াজ’-এর পক্ষ থেকে ডিমাসা রাইটার্স ফোরাম-এর সভাপতি মুক্তেশ্বর কেমপ্রাইর বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফ.আই.আর. দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তেশ্বর কেমপ্রাই ফেসবুকে একাধিক উস্কানিমূলক, মানহানিকর ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন, যা বরাক উপত্যকার বাঙালি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী এবং ১৯৬১ সালের ভাষাশহিদদের মর্যাদাকে অপমানিত করেছে ও সম্প্রীতি নষ্টের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি নিজেকে ডিমাসা রাইটার্স ফোরামের সভাপতি পরিচয়ে ফেসবুকে এক “চিঠি” আকারে উসকানিমূলক পোস্ট করেন। পরবর্তীতে ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি ব্যাংকিম ফংলোর একটি পোস্টে মন্তব্য করে “Message to Dr. Basanta Kumar Goswami, President, Assam Sahitya Sabha” শিরোনামে আরও একটি বিভাজনমূলক মন্তব্য প্রকাশ করেন।
সেই পোস্ট ও মন্তব্যে তিনি কাছাড় জেলার বঙ্গ ভাষাভাষী নাগরিকদের “বিদেশি” ও “বাংলাদেশ থেকে আগত লোক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ১৯৬১ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এবং শিলচর রেলস্টেশনের ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ নামকরণের বৈধতা নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
‘বরাকের আওয়াজ’-এর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য ইতিহাস বিকৃতি, বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতি চরম অবমাননা এবং বরাক উপত্যকার বহুভাষিক সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টির অপচেষ্টা।
এফ.আই.আর.-এ উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তেশ্বর কেমপ্রাইয়ের কর্মকাণ্ড ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারার আওতায় অপরাধযোগ্য, যেমন—
ধারা ১৯৬(১)(খ) ভাষা, জাতি বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা, ধারা ৩৫৩ – জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো মিথ্যা বা উস্কানিমূলক বিবৃতি প্রদান, ধারা ৩৫৬- উদ্দেশ্যমূলক অপমান ও শান্তিভঙ্গ ঘটানোর প্রচেষ্টা, ধারা ৩৫১-জনগোষ্ঠীর মানহানি , এর মধ্যে জামিন অযোগ্য ধারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগকারীরা পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, উক্ত পোস্টগুলির ডিজিটাল প্রমাণ দ্রুত সংরক্ষণ করা হোক এবং Meta Platforms (Facebook)-এর কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট IP ডিটেলস, টাইমলাইন ও সাইবার তথ্য সংগ্রহ করা হোক, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
মামলা দায়েরের সময় উপস্থিত ছিলেন-জয়দীপ দত্ত, অ্যাডভোকেট ধর্মানন্দ দেব, অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় নাথ, অ্যাডভোকেট পঙ্কজ কান্তি দে, সৌমিত্র দত্তরায়, ঝংকার পাল, অমরজিত বিশ্বাস, অরূপ কুমার দেব, রুদ্র প্রসাদ দাস প্রমুখ।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ‘বরাকের আওয়াজ’-এর প্রতিনিধিরা বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনও কারও ঘৃণা ছড়ানোর বা ইতিহাস বিকৃত করার অধিকার নয়। বরাক উপত্যকার সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় আমরা আইনের পথে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি।”
এদিকে, অ্যাডভোকেট ধর্মানন্দ দেব জানান, “গত ১৩ অক্টোবর অসম সাহিত্য সভা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শিলচর রেলস্টেশনের নাম ‘শিলচর ভাষা শহিদ স্টেশন’ করার পক্ষে পত্র প্রেরণ করেছে। বরাকের আওয়াজ এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানায়। তবে উক্ত পত্রে চারসূত্রীয় ভাষা নীতির উল্লেখ—প্রথম অসমিয়া, দ্বিতীয় বাংলা, তৃতীয় হিন্দি, ও চতুর্থ ইংরেজি তাই জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। রেল মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী আসামের স্টেশন নামের ভাষা হওয়া উচিত তিনটি—শিলচরের ক্ষেত্রে প্রথম বাংলা, দ্বিতীয় হিন্দি ও তৃতীয় ইংরেজি। তিনি অসম সাহিত্য সভার কাছে এই বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানান।”
সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা সৌমিত্র দত্তরায় জানান, “যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বরাকের আওয়াজ গণতান্ত্রিক উপায়ে আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। বাঙালি সমাজের এই অপমান কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”



