Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যকে স্মরণ করল বিশ্ববিদ্যালয়

ওয়ে টু বরাক, ১৬ জুন: গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যকে স্মরণ করল আসাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমেন্দ্রমোহন গোস্বামী সভাকক্ষে প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ভট্টাচার্যের স্মরণে এক সভার আয়োজন করা হয়। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থের পৌরোহিত্যে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় সঞ্চালনা করেন নিবন্ধক ড. প্রদোষ কিরণ নাথ।
তিনি জানান, গত ১০ জুন প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য প্রয়াত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক শোকপ্রকাশও করা হয়। কিন্তু উপাচার্য সহ অন্য পদস্থ আধিকারিকরা সেইসময় প্রাতিষ্ঠানিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকায় শোকসভা আয়োজিত হয়নি। এদিন প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ভট্টাচার্যের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতির অধ্যাপক মেহমুদ আলম আনসারি, কলেজ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের ডিরেক্টর জয়ন্ত ভট্টাচার্য, সহকারী নিবন্ধক ড. পুলক ধর, শিক্ষাকর্মী কিশোর কান্তি পাল প্রমুখ।
বক্তারা জানান, দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ভট্টাচার্যের সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবনের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব জমা পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে সেই প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করে এবং নন-ল্যাপসেব্যুল খাতে অর্থও বরাদ্দ হয়। তাঁর কার্যকালে সেইসব ভবন নির্মাণ না হলেও সেই অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে বিশেষ করে বিজ্ঞান শাখার বিভিন্ন ভবন নির্মিত হয়।
বক্তারা এদিন এও বলেন, দূরদর্শী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরো মেয়াদ কাটিয়ে গেলে উপত্যকারই আখেরে লাভ হত। উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যকে একজন মনিষী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে পরিচয় না থাকলেও কাজের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও দূরদর্শিতার কথা জানতে পেরে তিনি আপ্লূত। উদ্যোগ নিয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা না হওয়ার আক্ষেপ চিরকাল থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও বিদেহী আত্মার মোক্ষ কামনায় দুমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন নিবন্ধক ড. নাথ। প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য ১৯৯৯ সালের ১৮ এপ্রিল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ২০০০ সালের ১ নভেম্বর সিনিয়র প্রফেসর সুভাষ চন্দ্র সাহার হাতে সেই দায়িত্ব অর্পণ করে চলে যান। ২০২১ সালে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক দিলীপ চন্দ্র নাথের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে শেষ বারের মতো উপস্থিত ছিলেন তিনি।



