Barak UpdatesHappeningsBreaking News
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বরাক, জাতীয় সড়কে চলছে নৌকো !

ওয়েটুবরাক, ৪ মেঃ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল বরাক উপত্যকা। পাঁচগ্রাম ও শালচাপড়ায় জাতীয় সড়কের ওপর প্রবল স্রোতে নদী বয়ে চলায় বুধবার সকাল থেকেই জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
ওই অংশে রেললাইনও এ দিন জলের তলায় চলে যায় । ফলে বদরপুর-শিলচর অংশে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বাতিল করা হয়। শিলচরগামী ট্রেনগুলিকে বদরপুর পর্যন্ত চালানো হয়। বদরপুর থেকেই সেগুলিকে ছাড়া হচ্ছে। ভৈরবী-শিলচর ট্রেনকে কাটাখালে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই পরদিন ভৈরবীর উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছে।
এর দরুন নৌকা ভরসাতেই দিন কাটছে বরাক উপত্যকার মানুষের। বিশেষ করে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শিলচরবাসীর কাছে নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র মাধ্যম।
বরাক সহ সমস্ত নদীর জল দুদিন ধরে কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়েই বইছে। ফলে হাইলাকান্দি জেলায় যে সব এলাকায় কাটাখালের জল ঢুকে পড়ে, সেই জল ছড়িয়ে পড়াতেই বৃষ্টি না হলেও জাতীয় সড়কে জলস্ফীতি ঘটে চলেছে।
এই অবস্থায় শালচাপড়ায় ৩৭ নং জাতীয় সড়কে কাছাড় জেলা প্রশাসন দুই চাকার বাহন, সমস্ত ধরনের অটো রিকশা এবং ছোট গাড়ির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুধুমাত্র ভারি যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স, দমকল, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলার মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলোই চলাচল করতে পারবে বলে ওই নিষেধাজ্ঞায় জানানো হয়েছে। কাছাড় জেলা দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের মুখ্য কার্যবাহী আধিকারিক জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জরিমানা করা হবে। সে জন্য পুলিশ ও পরিবহন বিভাগকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এর দরুন বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের শিলচরে পৌঁছাতে বেশ সঙ্কটে পড়তে হয়। কয়েকজন যাত্রী শিলচরে পৌঁছে জানালেন, বদরপুরে নেমে তাদের অটোয় চেপে আসতে হয় পাঁচগ্রামে। মালপত্র কাঁধে নিয়ে সেখান থেকে রেলট্র্যাক ধরে কিছুটা এগোলে জাতীয় সড়কের ওপর নৌকো মেলে। ওই নৌকোয় কিছুটা চলার পরে রাস্তা ভেসে ওঠে। সেখানে প্রথম দফায় নৌকো থেকে নামা। এ বার অটোয় আরও কিছুটা এলে আবার জল, আবার নৌকো। শালচাপড়ায় এসে নৌকো থেকে নেমে শেষে শিলচরের অটো ধরে গন্তব্যে পৌঁছেছেন তাঁরা।


