Barak UpdatesHappeningsBreaking News

বিবেকানন্দ রোড পোস্ট অফিসে গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ, লিখেছেন নিখিল পাল

//নিখিল পাল//

পোস্ট অফিসের সাইনবোর্ডে লেখা আছে— “ডাকসেবা জনসেবা”, কিন্তু বর্তমানে সেই জনসেবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। দিন দিন পোস্ট অফিসের অবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হয়ে উঠছে।

আমি বেশ কয়েক দশক আগে থেকেই দেখে আসছি — নাজিরপট্টিতে আগে ভারতী বুক স্টলের পেছনে প্রথমে, এরপর উপরে ‘দেওয়ানজিবাজার পোস্ট অফিস’ ছিল। পরে সেই শাখাটি স্থানান্তরিত হয় এন. এন. দত্ত রোডে। কয়েক বছর পর আবার তা সরিয়ে নেওয়া হয় উল্লাস কর দত্ত সরণীতে। সম্প্রতি সেই শাখাটিও বন্ধ করে বিবেকানন্দ রোডের পোস্ট অফিসের সঙ্গে একত্রিত করা হয়েছে।

ফলে সেন্ট্রাল রোড, নাজিরপট্টি, জানিগঞ্জ, দেওয়ানজিবাজার, ফাটকবাজার সহ আশেপাশের এলাকার বহু পুরনো গ্রাহক আজ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির বাস্তব অভিজ্ঞতা আমি নিজে আজ অর্জন করেছি।

আমি ব্যাংকের কর্মচারী ছিলাম— পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলার তেমন প্রয়োজন কখনো পড়েনি। কিন্তু এক দুস্থ ভদ্রমহিলা, যিনি পোস্ট অফিসে কিছু কমিশন পেতেন, মানবিকতার খাতিরে তাঁর অনুরোধে আমি দেওয়ানজিবাজার শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম।

সম্প্রতি জানানো হয়, কেওয়াইসি জমা না দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বিবেকানন্দ রোডের পোস্ট অফিসে যাই কেওয়াইসি ও কিছু টাকা জমা দিতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পোস্ট অফিসের কোনো সাইনবোর্ড চোখে পড়ল না। বহু জিজ্ঞাসার পর জানতে পারলাম, পোস্ট অফিসটি নাকি ২৭ নম্বর গলির ভেতরে। গলির সামনে কোনো নির্দেশিকা বা সাইনবোর্ড নেই। ভেতরে প্রবেশ করে দোতলায় উঠে যা দেখলাম, তা সত্যিই বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক।

একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একটি মাত্র ঘর ভাড়া নিয়ে তিনটি পোস্ট অফিস শাখা একত্র করা হয়েছে। সামান্য সেই ঘরে অসংখ্য গ্রাহক জড়ো— কেউ টাকা তুলছেন, কেউ জমা দিচ্ছেন— সব কাজ একটিমাত্র কাউন্টার থেকে চলছে। সেখানে বেশ কয়েকজন এজেন্টকেও দেখা গেল, হাতে বহু পাসবুক ও নগদ অর্থ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

গ্রাহকদের বসার তো কোনো জায়গা নেই, দাঁড়াবার স্থানটুকুও তেমন নেই। বাড়ির মতো একটি সরু করিডোরে নারী-পুরুষ মিলে ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ যদি কোনো প্রশ্ন করতে চান, ভেতরে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই। বয়স্ক নাগরিকদের জন্য এটি একেবারেই অমানবিক পরিবেশ।

আমরা জানি, পোস্ট অফিসের অধিকাংশ গ্রাহকই সিনিয়র সিটিজেন। তাঁদের কথা বিবেচনা করে এমন অবস্থায় পোস্ট অফিস পরিচালনা সত্যিই মানবিকতার পরিপন্থী। আমি নিজে একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কেওয়াইসি ও টাকা জমা দিতে পারিনি। অবশেষে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

আমরা বছরের পর বছর নীরবে অনেক কিছু সহ্য করে আসছি, কিন্তু আজকের এই চরম দুরবস্থা দেখে আর চুপ থাকতে পারলাম না।

অতএব, আমি পোস্টাল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি—

এই পোস্ট অফিসটি অবিলম্বে উপযুক্ত ও প্রশস্ত স্থানে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক, সেই সঙ্গে কর্মীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হোক, যাতে সাধারণ গ্রাহক, বিশেষত বয়স্ক নাগরিকদের আর এই অমানবিক কষ্ট ভোগ করতে না হয়।

সেই সঙ্গে আমি শিলচর শহরের সকল সচেতন নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীদেরও অনুরোধ করছি— এ বিষয়ে সরব হয়ে সাধারণ মানুষের এই ন্যায্য দাবি সমর্থন করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker