Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জীবন অমৃত ২.০ : কাছাড় কলেজে স্বেচ্ছায় রক্তদান ২৪ ছাত্র-শিক্ষকের

ওয়েটুবরাক, ১১ নভেম্বর: “রক্তদান মহৎ দান”— এই চিরন্তন বার্তাকে ধারণ করে কাছাড় কলেজে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। কলেজের স্বেচ্ছায় রক্তদান প্রকল্প “জীবন অমৃত ২.০”-এর অংশ হিসেবে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো নিয়মিত রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে কলেজ ক্যাম্পাসে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার চেতনা জাগ্রত করা।
কলেজের এন.এস.এস. ইউনিট-এর উদ্যোগে এবং এন.সি.সি. ইউনিট ও রেড রিবন ক্লাব-এর সহযোগিতায় শিবিরটির আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করে লায়ন্স ক্লাব অব শিলচর লায়নেস।
এই উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা দফতরের উপসঞ্চালক সুমিত্রা দেব, অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ এবং উপাধ্যক্ষ মোঃ সামস উদ্দিন।

সুমিত্রা দেব কলেজের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “রক্তদান কেবল মানবিক কর্তব্য নয়, এটি সমাজের প্রতি আমাদের গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। কাছাড় কলেজের ‘জীবন অমৃত’ উদ্যোগ আজকের তরুণ প্রজন্মকে যে সামাজিক সংবেদনশীলতার পাঠ দিচ্ছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তরুণ প্রজন্মকে সমাজসেবায় যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়— মানবিক মূল্যবোধ, সংবেদনশীলতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা গঠনের ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
দিনভর চলা এই শিবিরে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী মিলিয়ে ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবক রক্তদান করেন। রক্ত সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল এস. এম. দেব সিভিল হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার। উপস্থিত ছিলেন টেকনিক্যাল সুপারভাইজার ওয়াসিম জাবেদ চৌধুরী, কাউন্সেলর সঞ্জনা নাথ, নার্স আশালু রংমাই, ল্যাব টেকনিশিয়ান দীপ রাজ, লিটন দেবনাথ, এবং সহকারী কর্মী সুব্রত চন্দ, কিশন দাস, ফারুক আহমেদ, ও রাজেশ নাথ। পুরো শিবিরটি তত্ত্বাবধান করেন মেডিকেল অফিসার ড. অর্পিতা দেব।
লায়ন্স ক্লাব অব শিলচর লায়নেস-এর প্রজেক্ট চেয়ারপারসন ড. ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাঁদের নিয়মিত রক্তদান ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন।
এন.এস.এস. ইউনিটের প্রোগ্রাম অফিসার ড. দীপ্যমন মহন্ত জানান, “জীবন অমৃত উদ্যোগের মাধ্যমে কাছাড় কলেজ এমন একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে চায়, যারা জরুরি পরিস্থিতিতে রক্তদানে প্রথম সাড়া দিতে সক্ষম হবে।“
অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ কলেজের সামাজিক দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে। শিক্ষা কেবল পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও শিক্ষার অঙ্গ। রক্তদান শিবির সেই চেতনারই প্রতিফলন।”



