Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জানুয়ারিতেই মহাসড়ক, সমস্যা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাসী কৌশিক

//উত্তমকুমার সাহা//
বড়াইলের বুক চিরে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরকে শিলচরে এনে চূড়ান্ত ভাবে পৌঁছাতে এখনও সমস্যা রয়েছে। সে সব সমাধান করে জানুয়ারিতেই মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়। শনিবার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ, দুই বিধায়ক মিহিরকান্তি সোম ও নীহাররঞ্জন দাস এবং জেলা পরিষদ সভাপতি কঙ্কন নারায়ণ শিকদারকে সঙ্গে নিয়ে শিলচর থেকে বালাছড়া হয়ে মাহুর পেরিয়ে নেরিমবাংলো পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন তিনি। পরে হাফলঙ সার্কিট হাউসে বসে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি ও উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে করেন পর্যালোচনা বৈঠক।
তবে ডিমা হাসাও জেলার দলইচুঙে এলিভেটেড করিডরের চারটি পিলারের কাজ এখনও শুরু হয়নি। সেখানে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিবাদ মিটলে পিলারের পাইলিঙে হাত দেওয়া হবে। দুদিন আগেও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন করেন গ্রামবাসী। কাছাড় জেলার দেবীনালায় পাথুরে পাহাড় কাটা অনেকটাই বাকি। সেখানেও জমি অধিগ্রহণের সমস্যা রয়েছে। রেটজলে কাজ চলছে বটে, কিন্তু ওই কাজ কবে শেষ হবে, সে প্রশ্নে কর্মরত শ্রমিকরা জবাব এড়িয়ে এ-ওর মুখের দিকে তাকান। তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী রায় বললেন, জানুয়ারিতেই শেষ হবে এই কাজ।
কীসের ভিত্তিতে এমন দাবি, তা বোঝাতে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে যান একেবারে নেরিমবাংলোর কাছে। জাটিঙ্গা থেকে ওই ২৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে গাড়ি ছোটে দ্রুততর। সেখানে আরও একবার মন্ত্রী রায় বললেন, মুখ্যমন্ত্রী ছাব্বিশের জানুয়ারির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিলেন। পরে তৈরি করেন বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দফতর। ফলে তাঁর এ প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থাকবে না। তবে জানুয়ারিতে হয়তো সব জায়গায় মহাসড়কের মহা-অবয়ব দেখা যাবে না। মন্ত্রী জানান, শুরুর দিকে ৪০ কিলোমিটার চার লেনেই এবং বাকি ৮-৯ কিলোমিটার দুই লেনে যানবাহন চলাচল করবে। পরবর্তী দুই-আড়াই মাসে একশো শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে বলে অনেকটা গ্যারান্টির সুরেই জানিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই অটলবিহারী বাজপেয়ী শিলচরের সঙ্গে তাঁর নিজের রাজ্যকে জুড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে থাকেন। তেরো মাসের প্রধানমন্ত্রিত্বের পর ১৯৯৯ সালে যখন নিরঙ্কুশ নেতৃত্বের অধিকারী হন, তখনই মঞ্জুর করেন পূর্ব ভারতের সঙ্গে সড়কপথে পশ্চিম ভারতকে জুড়ে দেওয়ার এই বৃহৎ প্রকল্প ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের। ২০০৪ সালে শিলচরে এর শিলান্যাস করেন তৎকালীন ভূতল পরিবহন মন্ত্রী বিসি খান্দুরি এবং অর্থমন্ত্রী যশোবন্ত সিং।

তাই একে ‘বাজপেয়ীর স্বপ্নের সড়ক’ বলে উল্লেখ করেন কৌশিক। সন্তোষমোহন দেব ও তরুণ গগৈর নাম না নিয়েও তিনি এই প্রকল্পের এত বিলম্বের জন্য তাঁদেরই দায়ী করেন। বলেন, সন্তোষমোহন দেব মহাসড়ককে ‘মহাধাপ্পা’ বলেছিলেন। এখন তাঁর কন্যা সুস্মিতাও নেতিবাচক মন্তব্যই করে চলেছেন। অন্যদিকে, শিলান্যাসের পরই বড়াইল পাহাড়কে অভয়ারণ্য ঘোষণা করে এর কাজ আটকে দিয়েছিলেন তরুণ গগৈ। পরে কেন্দ্রে-রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে বন ও পরিবেশ দফতরের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট মেলে, কাজে হাত লাগে।
এই রাস্তা নির্মাণে বিজেপি সরকার যে কতটা আন্তরিক, এর আরও উদাহরণ দিয়ে বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, হারাঙ্গাজাও থেকে জাটিঙ্গা, জাটিঙ্গা থেকে মাহুর এবং মাহুর থেকে নেরিমবাংলো পর্যন্ত তিনটি প্যাকেজে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বন্যায় হারাঙ্গাজাওয়ে পুরো সড়ক নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও বহু জায়গা। এর পরও তাঁদের সরকার একে বাতিলের কোঠায় না ঠেলে মূল প্রকল্পের প্রায় তিনগুণ অর্থ বরাদ্দ করে। ঘোষণা করে, ১৬৭৫ কোটি টাকা খরচ করে এলিভেটেড করিডর নির্মাণ করে মহাসড়ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে পাহাড়ি নদী রাস্তাকে স্পর্শ করতে না পারে, পাহাড় ধসেও সড়কে না পড়ে।
এখন আসলে ওই ৪৯.২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড করিডরেরই কাজ চলছে। মন্ত্রীর কথায়, গত এক বছর ধরে তিনি নিজে এর তদারকি করছেন। প্রতিমাসে আসছেন, বৈঠক ডেকে পর্যালোচনা করছেন। প্রতি মাসেই সন্তোষজনক অগ্রগতি নজরে পড়ে। এই সময়ে ৮৫.৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন কৌশিক।


