Barak UpdatesAnalyticsBreaking News

চিকিৎসা পেশায় জ্ঞান-দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ ও মানবতা প্রয়োজন, শিলচর মেডিক্যালে নবীনবরণে কৌশিক

এমবিবিএস শুধু এক ডিগ্রি নয়, জনসেবার মহান দায়িত্ব : কণাদ

ওয়ে টু বরাক, ১৬ সেপ্টেম্বর : শিলচর মেডিক্যাল কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষের ৫৭ ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয় মঙ্গলবার। এ দিন সকালে কলেজ প্রেক্ষাগৃহ প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন করে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রাই ও রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। ছিলেন মেডিক্যালের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অভিজিৎ স্বামী সহ শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সহ অভিভাবকরা।

এরপর প্রেক্ষাগৃহে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং বন্দেমাতরম সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। অনুষ্ঠানে শিলচর মেডিক্যাল পরিচালনা সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রাই নবাগত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, শুধু জীবিকা নয়, চিকিৎসা পেশা হল জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যের সরাসরি যুক্ত মহান দায়িত্ব। এই পেশায় জ্ঞান-দক্ষতার সঙ্গে মানবতাবোধ ও দায়িত্ববোধ থাকা আবশ্যক। জ্ঞান,নিষ্ঠা, সহমর্মিতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধকে চিকিৎসা শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে নবাগত শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি।

নতুন প্রজন্মের এমবিবিএস শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে মানুষের সেবায় কাজে লাগাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের  নিষ্ঠা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের প্রতি অঙ্গীকার বরাক উপত্যকা তথা অসমের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এরআগে বক্তব্য প্রসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, এমবিবিএস শুধু ডিগ্রি নয়, জনসেবার মহান দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন সন্তান বড় হয়ে সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। সেই লক্ষ্যে মা- বাবা তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় এবং সময়  সন্তানদের শিক্ষার জন্য ব্যয় করে দেন। সন্তানের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেন, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন, জীবন সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু কোন মা-বাবা কখনোই সে কথা মুখ ফুটে বলেন না। তাই চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়ুয়াদের মনে রাখতে হবে তাদের সাদা কোটে( অ্যাপ্রনে) বহন করছে মা-বাবার স্বপ্ন।

তিনি বলেন, একইভাবে চিকিৎসকের গায়ে জড়ানো সাদা কোট বহন করছে জনগণের আস্থা-ভরসা। সেজন্যই ডাক্তার হয়ে যাওয়া মানেই ডিগ্রি অর্জন নয়, তা জনসেবার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া। একজন রোগী হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে আপনার কাছে আসবেন। সেই মুহূর্তে তিনি আপনার ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখবেন। তারা কখনও জানতে চাইবেন না যে আপনি নিট পরীক্ষায় বা মেডিক্যাল পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছিলেন। জীবন বাঁচাতে ও সেবা দিতে আপনি আপনার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, সেই আস্থা-ভরসা নিয়ে আসবে একজন রোগী। সেই আস্থা বা ভরসাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নবাগত এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ  বলেন, এমবিবিএস কোর্স শিক্ষা জীবনের এমন এক যাত্রা,  যা অচিরেই নবাগতদের সাধারণ মেডিক্যাল শিক্ষার্থী থেকে দায়িত্বশীল চিকিৎসক এবং সর্বোপরি মানবতার সেবকে রূপান্তরিত করবে। অদূর ভবিষ্যতে জ্ঞান, দক্ষতা,সহানুভূতি, শৃঙ্খলা ও পেশাগত নৈতিকতায় সমাজের সেবা করবে আজকের শিক্ষার্থীরা, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সাংসদ কণাদ আরও বলেন,আজকের দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিনিয়ত বিবর্তন হচ্ছে। তাই শিক্ষার্জন থেকে বিরত থাকলে হবে না। মনে রাখবেন একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক আজীবন একজন শিক্ষার্থীই থেকে যান। দ্বিতীয়ত নৈতিকতার সঙ্গে  কখনও আপস করা যাবে  না। সততা বা নৈতিকতা ছাড়া সাফল্যের কোনও প্রকৃত অর্থ নেই।চিকিৎসাক্ষেত্রের পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করে  হয়তো একজন চিকিৎসক হতে পারবে। কিন্তু নৈতিকতায়  এমন একজন চিকিৎসক হয়ে উঠতে পারবে যার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারবে। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জীবনের পরম তৃপ্তি কেবল অর্থ উপার্জন বা খ্যাতি অর্জনের মধ্যে নিহিত নয়। তা হল “আমার কারণে কারও জীবন আরও ভালো হয়েছে।” নিবেদিতপ্রাণ  মানব সেবার প্রকৃত অর্থ এটাই। চিকিৎসক হয়ে কর্তব্য পালনে গ্রাম ও শহরের  যেখানেই যান না কেন, জ্ঞান -দক্ষতা, মানবতাবোধ ও নৈতিকতার সিঁড়ি ভেঙেই সাফল্যে শিখরে পৌঁছাতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইতিবৃত্ত এবং ঐতিহ্যে আলোকপাত করে নবাগত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ কামনা করেন  অধ্যক্ষ ডাঃ অভিজিৎ স্বামী। তাদের শিক্ষার্জনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নিট এমন এক পরীক্ষা, যেখানে মাত্র ৫ বা ৬ শতাংশ পড়ুয়াই সফল হতে পারে। এমন জীবনের কঠিন পরীক্ষায় আজ যারা এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছেন, আগামী দিনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে আর কঠিন পরীক্ষা এবং প্রত্যাহ্বান। তা অতিক্রান্ত করতে নিষ্ঠা,একাগ্রতা, অধ্যয়নের সঙ্গে দায়িত্ব বোধ,মানবতাবোধ প্রয়োজন। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে এই মেডিক্যাল কলেজের সুনাম-খ্যাতিকে আরও প্রসারিত করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য পেশ করেন কলেজের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ বিকাশ সাণ্ডিল্য। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাঃ বর্ণময় ভট্টাচার্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker