NE UpdatesHappeningsBreaking News

গৌরবপত্নীর আইএসআই যোগ তদন্ত করে দেখতে পুলিশকে মন্ত্রিসভার নির্দেশ

ওয়েটুবরাক, ১৬ ফেব্রুয়ারি: কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈর পত্নী এলিজাবেথের কি আইএসআই-র সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে? এই প্রশ্নে সন্দেহমুক্ত হতে পারছে না অসম মন্ত্রিসভা। রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাই রাজ্য পুলিশকে মামলা দায়ের করে অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে যে সব তথ্য মিলেছে, তা প্রচণ্ড অস্বস্তিকর, উদ্বেগজনকও। বিশেষ করে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ব্যাপার জড়িয়ে পড়ায় রাজ্য সরকার একে খাটো করে দেখতে পারে না। বিশেষ করে পাকিস্তানি নাগরিক আলি তৌকির শেখের সঙ্গে আইএসআইর যোগাযোগ রয়েছে কিনা, এ ব্যাপারেও তথ্য খুঁজছে হিমন্ত মন্ত্রিসভা। কারণ তাঁর সংস্থাতেই কর্মরত ছিলেন এলিজাবেথ। হিমন্ত জানান, সমাজ মাধ্যমে আলি তৌকিরের বিভিন্ন পোস্টে তার ভারতবিদ্বেষ, অসমবিদ্বেষ স্পষ্ট। এমন মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে গৌরব গগৈ সস্ত্রীক পাকিস্তান গিয়েছিলেন। তাতে সাংসদ গৌরব সম্পর্কেও সন্দেহ থেকে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, অসম দীর্ঘদিন ধরে আইএসআইর কুনজরে। তাই যে সব প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে, সেগুলি তদন্ত করে দেখতে রবিবার ডিজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 গৌরবপত্নী এলিজাবেথ আইএসআইর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, কংগ্রেস সাংসদকেও সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখা যায় না বলে অসমের মু্খ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ বিজেপি নেতারা যে সব অভিযোগ আনছেন, লোকসভায় কংগ্রেসের উপ-দলনেতা গৌরব গগৈ সেগুলিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, নিজেদের ব্যর্থতা থেকে সাধারণ জনতার দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতেই এইসব কথা আউড়ে চলেছেন শাসক দলের নেতৃবৃ্ন্দ।

স্পষ্ট করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথা না বললেও গেরুয়া শিবির যখন ওই পথেই এগিয়ে চলেছে, এ সময়ে গৌরবের পাশে দাঁড়িয়েছে এআইসিসি। সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, অসম বিধানসভার নির্বাচন এগিয়ে আসতেই বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধরনের কথা বলছে, তাঁদের সাংসদের চরিত্রহরণের অপচেষ্টা করছে। সে জন্য তাঁরা মানহানির মামলা করবেন বলে জয়রাম জানিয়েছেন।

অসমের ভোটারদের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে গৌরব আশাবাদী, ঝাড়খণ্ডের মতো নিজের রাজ্যেও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আবোলতাবোল মন্তব্য প্রত্যাখাত হবে।

এ দিকে, সমাজ মাধ্যমে স্ত্রী এলিজাবেথের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাংসদ গৌরব গগৈ। তাতে তিনি বলেন, “বিয়ের পর সব মেয়েই নিজের বাড়িঘর, ঘনিষ্ঠজনদের ছেড়ে পতিগৃহে আসে, কিন্তু তোমাকে তোমার মাতৃভূমিও ছেড়ে আসতে হয়। ভারতে এসে তুমি আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি, পরম্পরা আঁকড়ে ধরেছ। একজন অসমিয়া বধূ হিসেবে অসমে এসে তুমি আমাদের সংস্কৃতি গ্রহণ করেছ।”

নাম, ভাওনা, বিহু, পূজাপার্বণে এলিজাবেথের অংশ নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন গৌরব। তিনি পত্নীকে বলেন, তাঁর ব্রিটিশ পাসপোর্ট রাখা্ কোনও অপরাধ নয়, কারও ওসিআই কার্ড থাকাও দোষের নয়। “কারণ অন্য নারীদের মতোই তোমারও মা-বাবা-মাতৃভমির প্রতি অল্প হলেও টান থাকবে। মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তোমারও মন পড়ে থাকবে।” এলিজাবেথকে ‘মেধাসম্পন্ন প্রতিভাশালী নারী’ বলে অভিহিত করে গৌরব বলেন, “তুমি আইএসআই নও। অসমের মানুষের ভালবাসা ও আশীর্বাদের ওপর ভরসা রাখো।” সত্যকে সকলেই জানে বলে মন্তব্য করে তিনি খোলা চিঠির শেষে লিখেন “সত্যমেব জয়তে”।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker