Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News

খাসপুরে মঞ্চস্থ ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘নিহত গোলাম’, ব্যাপক সাড়া 

ওয়েটুবরাক, ২৪ অক্টোবর : খাসপুরের ঐতিহাসিক ডিমাসা রাজবাড়ির পাশে শিবরবন্দ বাগান দুর্গাপূজা কমিটির উদ্যোগে গত ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমীর রাতে মঞ্চস্থ হয় ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘নিহত গোলাম’। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এই যাত্রানুষ্ঠানকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।

মঞ্চের আলো, বাদ্যযন্ত্রের সুর, শিল্পীদের বলিষ্ঠ সংলাপ এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে রাতের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণময়। আধুনিক প্রযুক্তি ও মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তারে বিনোদনের ধরন বদলে গেলেও গ্রামীণ সমাজে যাত্রাশিল্পের আবেদন যে আজও অমলিন, এই আয়োজন যেন তারই প্রমাণ। যাত্রা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গ্রামীণ মানুষের আনন্দ-বেদনা, জীবনবোধ, সামাজিক চেতনা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

প্রফুল্ল চন্দ্র সরকারের প্রযোজনায় এবং শ্রীকান্ত দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই যাত্রাপালায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন সুরেশ দাস (মানস ওরফে চিতে ডাকাত), বৃহস্পতি দাস (ইব্রাহিম), প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার (জালাল উদ্দিন), দীপালী ঘোষ (লায়লা বেগম), শাশ্বতী দেব (শ্রীমতি) অন্যান্য চরিত্রে শিবেন্দ্র চন্দ্র দাস, মিষ্ট লাল দাস, বলাই দাস ও বাণী দাস। শিল্পীদের অভিনয়, সংলাপ পরিবেশন এবং মঞ্চ উপস্থাপনা যাত্রাপালাটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

রাত ১০টায় শুরু হওয়া যাত্রাপালার আকর্ষণে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকাসন ছিল পরিপূর্ণ। হৈমন্তী রাতের শীতও দর্শক-শ্রোতাদের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারেনি। যাত্রার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা প্রমাণ করে, লোকজ সংস্কৃতির শিকড় আজও গ্রাম-বরাকের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত।

যাত্রাদলের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন মনোরঞ্জন দাস। প্রম্পটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিবাস দাস। মঞ্চ ও গ্রিনরুমের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন শৈলেন দাস। সাজসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন বিবেক আচার্য। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন দিবাকর তাঁতি ও অরুণলাল দাস।

যাত্রা কেবল মঞ্চে অভিনীত কিছু দৃশ্য কিংবা সংলাপের সমষ্টি নয়। এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ, মাটির সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক এবং অতীতের স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের এক নিবিড় সেতুবন্ধন। গ্রামীণ জীবনের সরলতা, লোকজ ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যাত্রাশিল্পের ভূমিকা আজও গুরুত্বপূর্ণ। খাসপুরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শিবরবন্দ বাগান দুর্গাপূজা কমিটির এই আয়োজন সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও একবার জীবন্ত করে তুলল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker