NE UpdatesHappeningsBreaking News
অসমের ৬৩.৫৮ লক্ষ বিঘা জমি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে, সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী

ওয়েটুবরাক, ২৭ জানুয়ারি: অসম আজ এক নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম এখন অতীত। অসম দেশের অন্যতম দ্রুততম উন্নয়নশীল রাজ্য হয়ে উঠেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে এই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি বলেন, একটা সময় ছিল, যখন হরতাল, ধর্মঘট, বোমা বিস্ফোরণ এবং বন্দুকের রাজত্ব ছিল, সেই অন্ধকার দিন পেরিয়ে আমরা বর্তমানে বিকাশের পথে চলছি।
তাঁর ভাষণে ভূমি এবং আত্মপরিচয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। শর্মা বলেন, তার সরকার বাংলাদেশি মুসলিমদের কাছ থেকে জমি পুনরুদ্ধার করতে মোটেও আপস করবে না। দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আত্মপরিচয়, নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি নাগরিকদের এ ব্যাপারে অটল, অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প এবং সামাজিক খাতে সরকারের নানা সাফল্য উল্লেখ করে শর্মা বলেন, “বিকাশের পথটি অসমে সম্পূর্ণ হবে না যদি তার জনগণের পরিচয় সুরক্ষিত না হয়।” তিনি ২০২৭ সালের জনগণনা সম্পর্কিত পূর্বাভাস উল্লেখ করেন যে, পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) থেকে আগত মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে, এবং ১২টি জেলায় হিন্দুরা ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। এছাড়া, তিনি দাবি করেন যে ৬৩.৫৮ লক্ষ বিঘা জমি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের আগে কোনো সরকারই দখল উচ্ছেদে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এবং পূর্ববর্তী প্রশাসন “এই বিদেশিদের কাছে আত্মসমর্পণ” করেছিল।
সামাজিক আইন এবং শিশু বিবাহের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে একটি ঐতিহাসিক আইন পাশ করা হয়েছে, যা বহুবিবাহ রোধ করবে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “অসমে গত পাঁচ বছরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, শহিদদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের কর্মময় জীবন সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আদিবাসীদের মধ্যে ভূমিপাট্টা বিতরণ করা হয়েছে এবং বিহু, ঝুমুর, বাগুরুম্বার মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হয়েছে।”



