India & World UpdatesHappeningsBreaking News
রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক!

ওয়েটুবরাক, মার্চ ৮: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে কেন্দ্র করে ভোটের লড়াই বেধে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে।
আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার উত্তরবঙ্গে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এখানে তো ৫ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!’’ তার পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোটবোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।’’ এখানেই থামেননি দ্রৌপদী। রাজ্যের আদিবাসী, অনগ্রসর অংশের মানুষজন সরকারি সুযোগসুবিধা পান কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমার দেখে মনে হচ্ছে না, সাঁওতাল সমাজ বা আদিবাসী সমাজের মানুষ সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পান। আদৌ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’’
দুপুর থেকে এ নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা শনিবারই কোনও প্রতিক্রিয়া দেন কি না তা নিয়ে। দেখা গেল ধর্নার শেষ পর্বে বক্তৃতা করতে উঠে ৫০ মিনিটের প্রায় সিংহভাগ সময়ই মুখ্যমন্ত্রী ব্যয় করলেন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে। দ্রৌপদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘আই অ্যাম সরি ম্যাডাম। আই হ্যাভ গ্রেট রিগার্ড্স ফর ইউ। বাট ইউ আর ট্র্যাপ্ড বাই দ্য বিজেপি’স পলিসি (মাননীয়া, আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়েছেন)।
এর পর আক্রমণ আরও চড়া দাগে তোলেন মমতা। অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে বিজেপি তাদের রাজনীতি বেচতে পাঠিয়েছে। মণিপুরে যখন জনজাতি অংশের উপর আক্রমণ চলছিল, তখন কেন রাষ্ট্রপতি কোনও কথা বলেননি, সেই প্রশ্নও তোলেন মমতা। এসআইআর নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে বলেন, ‘‘বিজেপির পরামর্শে বিধানসভা ভোটের সময় রাজনীতি করবেন না। এসআইআর নিয়ে একটাও কথা বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।’’
রাতে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মমতা জানান, রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির আয়োজক ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’ একটি বেসকরকারি সংস্থা। তাঁর কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয় রেখেছিল। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে জানানো হয়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। তার পরেও কর্মসূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়। শনিবার শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক সকলেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজির ছিলেন। সেখানে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্য সাধিত করতে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।’’
মমতার বক্তৃতার আগেই অবশ্য সমাজমাধ্যমে সরব হন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি লেখেন, ‘‘এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।’’ তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি এই ‘অসম্মানের’ জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী। একই সঙ্গে তাঁর মত, সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত হালকা ভাবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’’
দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই সাম্প্রতিক অতীতে নজিরবিহীন। মোদির সুরে শাহও শনিবার আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার নতুন একটি নিম্নমানের উদাহরণ তৈরি করেছে। যা সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে অবজ্ঞা এবং অসম্মান।’’ পাল্টা অভিষেক লিখেছেন, ‘‘বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল-সহ সমস্ত প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বাংলার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন বাংলা আরও শক্তিশালী হয়।’’ তবে বিজেপি যে রাষ্ট্রপতি ইস্যুকে সামনে রেখে ঝাঁপাচ্ছে, তা স্পষ্ট একের পর এক পোস্ট থেকেই। মোদি, শাহ ছাড়াও শনিবার রাতে এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে পোস্ট করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, নিতিন গডকড়ী, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, কিরেন রিজিজু। পোস্ট করেছেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাক়ৃষ্ণণ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহাও। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের মধ্যে শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী তো আছেনই।


