NE UpdatesHappeningsBreaking News
উত্তপ্ত কার্বি আংলঙ, সিইএমের বাড়িতে আগুন

ওয়েটুবরাক, ২৩ ডিসেম্বর: অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন করতে হবে বলে আন্দোলনে নেমেছেন কার্বিরা। সোমবার সন্ধ্যায় তা চরমে ওঠে। কার্বি আংলং স্বায়ত্ত্বশাসিত পরিষদের মুখ্য নির্বাহী সদস্য তুলিরাম রংহাং-এর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় আধা সামরিক বাহিনীর এক সদস্য-সহ ৪ জন গুরুতর জখম হন।
অনুপ্রবেশকারীরা কার্বি আংলংয়ের সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে অনশনে বসেছেন কার্বি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, পূর্বপুরুষদের জমি যেন অন্য কারও দখলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। রবিবার ৭ জন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেলে খেরোনি থেকে মিছিল শুরু করেন কয়েক শো আন্দোলনকারী। তাঁদের দাবি, আটক ৭ জনকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। ডংকামুকামের রাস্তায় বসে পড়েন অনেকে। কয়েকজন চলে যান তুলিরাম রংহাং-এর বাড়িতে। শুধু তাই নয়, তাঁরা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এর পরেই আসরে নামে পুলিশ। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। পাল্টা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীরা। রীতিমতো ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ৩ জন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর পরেই আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, ‘গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিল? এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। আমাদের উপরে গুলি চালানো হয়েছে। তিনজন হাসপাতালে ভর্তি।’ তবে বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের উপরে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
রাতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, অনশনরত আন্দোলনকারীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই পুলিশ তাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। কাউকে আটক করা হয়নি। ভুল বার্তায় আন্দোলনকারীদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং এমন ঘটনা ঘটে। অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবিতে কার্বিদের যে আন্দোলন, এর সঙ্গে সরকারের বিরোধের কোনও জায়গাই নেই। সরকার স্থানে স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করছে। কিন্তু কার্বি আংলঙের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, হাই কোর্টের এক নির্দেশ। হাই কোর্ট বলে দিয়েছে, এখনই সেখানে কোনও উচ্ছেদ অভিযান যেন চালানো না হয়। এখন সরকার হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করবে কী করে, প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষামন্ত্রী রণোজ পেগুকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কার্বি আংলঙে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, কথা বলছেন। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানান হিমন্ত।



