Barak UpdatesAnalyticsBreaking News
এআই ভিত্তিক ভাষা অনুবাদ ডিভাইস উদ্ভাবন অধ্যাপক বরুণজ্যোতির, পেলেন প্যাটেন্টও

ওয়ে টু বরাক, ১ জুন : ভাষা যে কেবল ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং সংস্কৃতি ও জ্ঞানের সেতুবন্ধন—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরী। তাঁর উদ্ভাবিত এআই ভিত্তিক ভাষা অনুবাদ ডিভাইস সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের পেটেন্ট অফিস থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে। অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরীর এই উদ্ভাবনে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ ও নিবন্ধক ড. প্রদোষকিরণ নাথ।
এই অনন্য যন্ত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় বাস্তবসম্মত, প্রাসঙ্গিক ও প্রমিত অনুবাদ করতে সক্ষম। এটি শুধু লিখিত পাঠ্য নয়, শ্রবণযোগ্য কথোপকথনের অনুবাদও করতে পারে, যা বহুভাষিক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও সহজ করবে।
অধ্যাপক চৌধুরীর মতে, এই ডিভাইসটি মূলত এমন একটি টুল যা ছাত্রছাত্রী, গবেষক, পর্যটক, চিকিৎসক, প্রশাসনিক কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্যও খুবই উপযোগী। এখন যে কোনও মানুষ নিজে অনুবাদের সুবিধা নিতে পারবেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
এই ডিভাইসটি বহনযোগ্য, ব্যবহার-বান্ধব এবং বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে ভয়েস রিকগনিশন, টেক্সট টু স্পিচ ও স্পিচ টু টেক্সট সুবিধা, যা আধুনিক ভাষা অনুবাদ প্রযুক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এই আবিষ্কার বাংলা ভাষার জন্য এক গৌরবজনক মুহূর্ত, কারণ যন্ত্রটিতে বাংলা ভাষা অনুবাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে অভিমত গবেষক মহলের। বিশেষ করে বাংলা ভাষার সাহিত্যিক অনুবাদ ও আঞ্চলিক সাহিত্য সংরক্ষণে এটি এক কার্যকর সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরী আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি বহুদিন ধরে ভাষাবিজ্ঞান, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণ-পদ্ধতি এবং ভাষার ডিজিটাল সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করছেন। এর আগে তিনি বাংলা ভাষার জন্য একটি রাইটিং ডিটেকশন ডিভাইস উদ্ভাবন করে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
উল্লেখ্য, এই পেটেন্টে সহ-গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন ড. কণিকা চক্রবর্তী, যিনি অধ্যাপক চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে শ্রীভূমির পণ্ডিত দীনদয়াল আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরীর এই উদ্ভাবনে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ ও নিবন্ধক ড. প্রদোষকিরণ নাথ। তাঁরা আশা ব্যক্ত করে বলেছেন, ড. বরুণজ্যোতির এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভাষা-সংক্রান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।



