Barak UpdatesAnalyticsBreaking News

একের পর এক নির্বাচনে হারের জন্যই এসআইআর-এর দিকে আঙুল তুলেছে কংগ্রেস : কণাদ

ওয়ে টু বরাক, ১৪ অক্টোবর : কংগ্রেস আজ জনবিচ্ছিন্ন। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে বিরোধী দলটি। তাই এখন যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করে দেশবিরোধী বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে অস্থির বাতাবরণ সৃষ্টির প্রচেষ্টা করছে কংগ্রেস। নির্বাচনে হারের কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার দিকে আঙুল তুলছে। বুধবার শিলচরে কাছাড় জেলা বিজেপি আয়োজিত প্রতিবাদী মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ।

তিনি বলেন, এসআইআর একটি সংবিধান স্বীকৃত ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া। ১৯৫২ সাল থেকে দেশে এখন পর্যন্ত ৮ বার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। এই ৮ বারের মধ্যে ৬ বারই কংগ্রেসের শাসনকালে হয়েছে। একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরিতে এবারের এই প্রক্রিয়ায় বিজেপি, কংগ্রেস সহ সবকটি রাজনৈতিক দলের ৩৫ লক্ষ কর্মী বিএলএ-২ হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এরপরও এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আসলে কংগ্রেস দলের নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী ব্যর্থতা আড়াল করতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবর্ষের অভূতপূর্ব অগ্রগতি থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই আন্দোলনের নামে এই দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে কংগ্রেস।

তিনি বলেন, বিজেপি সরকার আসার পরই নির্বাচনে হারছে কংগ্রেস, এমন নয়। দেশের ছোট, বড় রাজ্যে দীর্ঘদিন থেকে কংগ্রেস অস্তিত্ব সংকটে। তামিলনাড়তে ৫৯ বছর, পশ্চিমবঙ্গে ৪৯ বছর, উত্তরপ্রদেশে ৩৬ বছর, বিহারে ৩৬ বছর, গুজরাটে ৪১ বছর, ওডিশায় ২৬ বছর, সিকিমে ৪২ বছর, নাগাল্যান্ডে ২৬ বছর, ত্রিপুরায় ৩১ বছর ধরে কংগ্রেস শাসন ক্ষমতায় নেই। এটা তো আর নরেন্দ্র মোদি বা জ্ঞানেশ কুমার বা এসআইআর-এর জন্য হয়নি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ তামিলনাড়ু, পুদুচেরী, অসমে উপনির্বাচনে বিজেপি এবং এনডিএ-র প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজস্থান ও গুজরাটে পুরসভা ও পুর নিগমের নির্বাচনে ৯০ শতাংশ আসনে বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ত্রিপুরা গ্রাম সমিতির নির্বাচনে ৪৬০০ আসনের মধ্যে ৪১০০টি আসনে এনডিএ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ১৪টি আসন। শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে একই হাল কংগ্রেসের। সাংসদ কণাদ উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনী ফলাফল কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি দেশের জনগণের বিশ্বাস হারানো, এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকারই প্রতিফলন। তাই দেশবিরোধী বিদেশী শক্তির মদতে সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে দুর্বল করার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলার যে প্রচেষ্টা কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি করছে, তা ভারতীয় জনতা পার্টি সহ দেশের সর্বস্তরের রাষ্ট্রবাদী জনগণ অবশ্যই প্রতিরোধ করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker