Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, লিখেছেন অধ্যাপক দিলীপকুমার দে
//অধ্যাপক দিলীপকুমার দে //
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহাশয়,
উপযুক্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা সহ আমার এই বৃদ্ধ বয়সে আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ করছি যে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বার্থে পারস্পরিক ‘ইগো’ ও জেদাজেদির ঊর্ধ্বে উঠে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে শ্রী জ্ঞানেশকে নিয়ে উদ্ভুত অশান্ত পরিস্থিতির সমাধান করুন।
দিল্লি বিশাল ভারতের রাজধানী। সেখানে নানা বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমাগম হয়ে থাকে। তাছাড়া বিদেশি পড়ুয়ারাও সেখানকার নানা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে থাকেন। বিদেশের দূতাবাসগুলো সেই রাজধানী নগরীতে রয়েছে। অথচ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ও ছাত্র- যুবদের সাথে কোনরকম আলাপ আলোচনা ব্যতিরেকে সারা দেশের প্রাণকেন্দ্রে এক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে দেশের মানসম্মান জড়িত। কেবল সশস্ত্র পুলিশ, সংঘর্ষ, ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ, জেলভরা দিয়ে দেশের শিক্ষিত যুবকদের মোকাবেলা না করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনা এই সময়ে দেশের জন্য মঙ্গল হবে।
আমি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য নিয়ে চিন্তিত নই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতামত থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের শিক্ষিত যুবসমাজ, যারা আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ও জেলবন্দি করা বড়ই পীড়াদায়ক। এই ছাত্র ও যুবসমাজ দেশের সম্পদ, এদের ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে।
আপনার রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদের দূরদৃষ্টির অভাব ও গোয়েন্দাদের অজ্ঞানতার জন্য হয়ত গৃহ বিভাগের গা-জোয়ারী মনোভাব আপনাকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে বাধাগ্রস্ত করছে। ভেবে দেখুন, শ্রী জ্ঞানেশ কুমার কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন, তিনি বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত একজন অফিসার। সংবিধান অনুসারে প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার অধিকারী। কেউ ব্যক্তিগত আচরণের ফলে ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভোটাধিকার হরণ করতে পারেন না। লক্ষ লক্ষ জীবিত নাগরিক জ্ঞানেশ কুমারের খামখেয়ালি ও অপকর্মের জন্য আজ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এটাই কি ঘোষিত সম্পদ বৃদ্ধি ৭.৮℅ বাড়িয়েছে?
আপনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, দেশনেতা। ভেবে দেখুন ভোটাধিকার হরণকারী জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্রয় দেবেন নাকি দেশের কোটি কোটি ছাত্র যুবকদের সাথে কথা বলে জ্ঞানেশ কুমারকে অন্য পদে সরিয়ে কিংবা অবসরে পাঠিয়ে দেশকে কলঙ্ক মুক্ত করবেন। আমরা দেশে শান্তি ও সুবিবেচনা-প্রসূত সিদ্ধান্ত চাই। এই দেশ সকলের, রাষ্ট্র সকল নাগরিকদের।
শ্রদ্ধা সহ,
নমস্কারান্তে
অধ্যাপক দিলীপ কুমার দে
শিলচর-৫, আসাম



