Barak UpdatesHappeningsBreaking News
সাত বছর পর ফের প্রকাশিত হলো ‘আর্ট ইকো’

ওয়েটুবরাক, ১৩ অক্টোবর: কলা-সংস্কৃতি বিষয়ক দ্বিভাষিক গবেষণা জার্নাল ‘আর্ট ইকো’র নতুন সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটায় গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে। ২০১১ সালে প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল । মাঝে প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর ১৮ জন লেখকের রচনায় সমৃদ্ধ এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হলো।
অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায়। ছিলেন নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, অধ্যাপিকা সুপর্ণা রায়, শিলচর শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষা অপর্ণা ভট্টাচার্য্য, শিল্পাঙ্গনের সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজকুমার মাজিনদার।
স্বাগত বক্তব্যে জার্নালের সম্পাদক ড. পিনাকপানি নাথ বলেন, ‘আর্ট ইকো’র মূল উদ্দেশ্য বরাক উপত্যকার দৃশ্যশিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পীদের অবদান তুলে ধরা। অঞ্চলটিতে সরকারি মিউজিয়াম ও উপযুক্ত আর্ট গ্যালারির অভাব থাকায় শিল্পচর্চা, প্রদর্শনী ও গবেষণায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বরাকের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারত ও দেশের শিল্প-ইতিহাস নিয়ে গবেষণার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
মুখ্য অতিথি ড. নিরঞ্জন রায় বলেন, বর্তমান এআই-যুগে মুদ্রিত আর্ট জার্নাল প্রকাশ অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি জার্নালটির নিয়মিত প্রকাশ, গবেষণাপত্রের যথাযথ পর্যালোচনা এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর্ট গ্যালারি গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ বলেন, শিল্প না-বলা কথা প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। অজন্তা গুহার চিত্রকলা থেকে আঞ্চলিক ঐতিহাসিক নিদর্শন—সবই শিল্পের মাধ্যমে আমাদের অতীতের সংস্কৃতির পরিচয় দেয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিল্পচর্চা প্রসার, আর্ট গ্যালারি নির্মাণ ও নবীন শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপিকা সুপর্ণা রায় বলেন, ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা ‘আর্ট ইকো’ ২০২৬ সালেও নিজস্ব মহিমায় এগিয়ে চলছে—এটি আনন্দের বিষয়। তিনি বলেন, এই প্রকাশনা শুধু প্রকাশনার কাজ নয়, বরং সংস্কৃতি সংরক্ষণে সমাজের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
এদিন আরও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শিলচর শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষা ড. অপর্ণা ভট্টাচার্য এবং ড. রাজকুমার মজিনদার । শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পাঙ্গনের সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতীতি শীল।



