Barak UpdatesAnalytics
শিলচর পুর নিগম : ভোট কংগ্রেসের পক্ষে নীরব জনসমর্থন রয়েছে, দাবি রিপুন বরার

ওয়ে টু বরাক, ২৪ সেপ্টেম্বর : শিলচর পুর নিগমের প্রথম নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থীদের প্রতি সাধারণ মানুষের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করলেন অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সভাপতি রিপুন বরা। বৃহস্পতিবার শিলচর কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি সরকার ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আনেন তিনি।
রিপুন বরার দাবি, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত ছয় বছর ধরে শিলচরে পুর নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিকরা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নাগরিক ফোরামের করা মামলার পর হাইকোর্টের নির্দেশেই নির্বাচন আয়োজনের পথ খুলেছে বলে জানান তিনি।এর পাশাপাশি নির্বাচিত পুর বোর্ড না থাকা অবস্থায় শহরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর বিষয়েও সরব হন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, লাইসেন্স এবং জলের কর বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নাগরিক প্রতিনিধিত্বের নির্বাচিত কাঠামো ছাড়াই। নির্বাচনে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য শিলচরের ভোটারদের কাছে আবেদন জানান তিনি।
কংগ্রেস প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনাতেও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ করেন রিপুন বরা। তাঁর দাবি, তিনটি ওয়ার্ডে ভয় দেখিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শিলচরের পুরভোটের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিপুন বরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রিপুন বরার আরও দাবি, এসআইআর সহ নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, তিন নির্বাচন কমিশনারের সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ দেওয়ার দাবিও করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এস আই আর সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন সদস্যের কমিশনের অনুমোদন ও সম্মতির ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির প্রার্থীদের নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক পৃথ্বিরাজ শাঠে। তাঁর দাবি, বিজেপির ১৩ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভুয়ো সার্টিফিকেট এবং অসম্পূর্ণ নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের পরও তদন্ত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। শিলচরের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঘোষিত ১০০ কোটি টাকার প্যাকেজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পৃথ্বিরাজ শাঠে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকার সময় এই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।


