Barak UpdatesHappeningsBreaking News

১২ নভেম্বর পর্যন্ত “নো রিপোর্টিং” এনএইচএম কর্মীদের

ওয়েটুবরাক, ৭ নভেম্বর: টানা তিনদিন এন এইচ এম কর্মচারীদের ধর্মঘট পালনের ফলে সারা রাজ্যের সঙ্গে কাছাড় জেলায়ও স্বাস্থ্য পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়। তবুও সরকারের টনক নড়েনি। গোটা রাজ্যে প্রায় ২২ হাজার এন এইচ এম-এর কর্মচারী রয়েছেন। একসঙ্গে, এক সুরে একই দাবিতে তারা আওয়াজ তুললেও সরকারের কৃপাদৃষ্টি তাদের উপর পড়েনি।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সংগঠন কর্মকর্তারা মিশন সঞ্চালকের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও সন্তোষজনক কোন ফলাফল বের হয়নি। তাই পূর্বঘোষিত ধারাবাহিক কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয় এবং আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত “নো রিপোর্টিং” ধর্মঘট চলবে। তাঁর তাদের কোনও কাজের রিপোর্ট করবেন (অন লাইন এবং অফলাইন) না। বিভাগীয় কোন পোর্টালেও হাত দেবেন না তাঁরা।

পাশাপাশি বিধানসভা ভিত্তিক মেগা হেল্থ ক্যাম্প সংক্রান্ত কোনও কাজই করবেন না রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য অভিযান অধীনস্থ কর্মচারীরা। যেখানে এখনও মেগা স্বাস্থ্য শিবির হয়নি কিংবা যেসব বিধানসভা এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে সেখানকার বিভিন্ন রোগে চিহ্নিত করা (রেফারেল) শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান বা এই সংক্রান্ত কোনও কাজে হাত দেবেন না এনএইচএম কর্মীরা।

এদিকে, ধর্মঘট আয়োজক এন এইচ এম এমপ্লোয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (এন ই এ) এবং অল আসাম হেল্থ অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আটোয়া) আয়োজিত কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘটের পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ে জানা যাবে আগামী ৯ নভেম্বরের পর। উভয় সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, ৯ নভেম্বর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের। এই মিটিংয়ের পর আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন এনইএ এবং আটোয়া -র কর্মকর্তারা। এ আন্দোলন বিষয়ে ফোনে এনইএ সভাপতির কাছ থেকে খবর নেন লোকসভার উপনেতা গৌরব গগৈ।  আন্দোলনের অন্তিম সময়ে শিলচর সিভিল হাসপাতালের আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে এন এইচ এম কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানান রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব, কাটিগড়ার বিধায়ক খলিল উদ্দিন মজুমদার ও জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সজল আচার্য।

বিষয়টি আসন্ন বিধানসভার অধিবেশনে উপস্থাপন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিধায়ক খলিল উদ্দিন মজুমদার। সজল আচার্য বলেন, দলীয় নেতা সাংসদ গৌরব গগৈর মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের প্রয়াস করবেন।

সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এন এইচ এম কর্মচারীদের মুখ্য দাবি সম কাজে সম বেতনের দাবিটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। বাদ বাকি দাবিসমূহও ন্যায্য বলে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, কর্মচারীদের গত মার্চ মাসের আন্দোলনের বিষয়টি তিনি সংসদে উপস্থাপন করেন। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে ব্যাক্তিগতভাবে দেখা করে এব্যাপারে আলোচনা করেন। সাংসদ বলেন, এন এইচ এম -র দাবি পূরণে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, এসব দাবি সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত যা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এসব দাবি পূরণের ব্যাপারে সব সময়ে পাশে থাকবেন। এমনকি কেন্দ্রীয়ভাবে রাজ্যের রাজধানীতে আন্দোলন হলে সেখানেও তিনি সামিল হবেন বলে জানান। এদিন সুস্মিতা দেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এনইএ এবং আটোয়া -র কর্মকর্তারা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় বিধায়ক খলিল উদ্দিন মজুমদার ও সজল আচার্যের প্রতিও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker