Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বরাকে রেল-সড়ক বন্ধ দেখেই বিমানের টিকিট অগ্নিমূল্য

ওয়েটুবরাক, ২৭ জুন : জাতীয় সড়ক সবদিক থেকে বন্ধ, একমাত্র রেলপথে চারদিন ধরে ট্র্যাকের ওপর পড়ে রয়েছে ৫০,০০০ ঘনমিটার মাটি-পাথর। বরাক উপত্যকার মানুষকে এমন বিপাকে পড়তে দেখেই টিকিটের দর চড়িয়ে দিল বিমান পরিবহন সংস্থাগুলি। এমনই বৃদ্ধি যে, লাফিয়েও কোনও পণ্য এতটা এগোতে পারে না। এক সপ্তাহের মধ্যে গুয়াহাটিতে যেতে বা গুয়াহাটি থেকে আসতে চাইলে দশ-এগারো হাজার টাকার নীচে টিকিট মিলছে না। সময়বিশেষে তা ১৪০০০-ও ছাড়ায়। আজকের দিনে কম টাকায় শিলচর থেকে গুয়াহাটিতে যেতে হলে পুরো সাতদিন অপেক্ষা করতে হবে। সবচেয়ে কম দাম বললে, ৩ তারিখের বিমানে ওড়া যেতে পারে। তাও টিকিট প্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা। অন্য সময়ের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি।
আশ্চর্যের ব্যাপার যে, বরাক উপত্যকার মানুষের চেয়ে যাতায়াত বা যোগাযোগ ইস্যুতে কম বিপাকে নয় ত্রিপুরা ও মিজোরাম। কিন্তু ওই দুই রাজ্যে এই সঙ্কটের সময়েও বিমান চড়তে এত অর্থ ব্যয় হয় না। এ নিয়ে বরাক উপত্যকার জনপ্রতিনিধিরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। শাসকদলের মন্ত্রী-বিধায়করা দল বেঁধে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এ ব্যাপারে উপযুক্ত চাপ সৃষ্টি করা গেলে কিছুটা অন্তত সুরাহা মিলত। মুখ্যমন্ত্রী নিজে অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে পারতেন। টিকিটের মূল্য না বাড়িয়ে এই রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার ভর্তুকি দিতে পারত। বিমানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে এই অঞ্চলের মারাত্মক সমস্যাটি নিয়ে কে যায় কথা বলতে!
প্রাক্তন মন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা আবু সালেহ নজমুদ্দিন আজ সমাজ মাধ্যমে শিলচরের তিন সাংসদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পোস্ট করেছেন, তিন সাংসদ থাকতে শিলচর থেকে গুয়াহাটিতে যেতে বিমান ভাড়া লাগে নয় হাজার টাকা, আর সমদূরত্বের আকাশপথে আগরতলা থেকে গুয়াহাটিতে যেতে লাগে মাত্র দুই হাজার টাকা। একই কথা শুনিয়েছেন নেতাজি ছাত্র-যুব সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা দিলু দাসও। একই কথা বলছেন শত শত নেটিজেন।



