Barak UpdatesHappeningsBreaking News
রাধামাধব কলেজে পরিবেশিত হলো সমবেত কণ্ঠে “বন্দেমাতরম” সংগীত

ওয়ে টু বরাক, ৭ নভেম্বর : সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “বন্দেমাতরম” সংগীতের দেড়শো বছর পূর্তিতে শুক্রবার রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দ্দেশ মর্মে শিলচর রাধামাধব কলেজে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হলো বন্দেমাতরম সংগীত। এ দিন কলেজের শিক্ষক, অশিক্ষক, লাইব্রেরি কর্মচারী সহ ছাত্রছাত্রীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন বন্দেমাতরম সংগীত। প্রসঙ্গত সংগীত শুরুর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংগীত বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. রাহুল চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, দেড়শো বছর আগে রচিত বন্দেমাতরম সংগীতটি একটি মন্ত্র উচ্চারণ রূপে পরাধীন ভারতে তুলে ধরেছিলেন সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তী সময়ে তাঁর লেখা বিখ্যাত আনন্দমঠ উপান্যাসে সংগীতটি যুক্ত হয়েছে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইতে এই সংগীত একটি সঞ্জীবনী মন্ত্র হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন রাহুল চক্রবর্তী ।
তিনি আরও বলেন, এই সংগীতটির টিউন কম্পোজার ছিলেন যদুনাথ ভট্টাচাৰ্য। পরবর্তীকালে অনেকেই বিভিন্নভাবে যার সুর সংযোজন করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে কংগ্রেস অধিবেশনে এই গান স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন যা আজ প্রতিজন ভারতবাসীর কাছে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা পৌঁছে দেয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন সবার মধ্যে দেশ চেতনা জাগ্রত করার। আর সেজন্য এই সংগীতের ইতিহাসকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও নাগরিকদের প্রত্যেকের কাছে দেশ চেতনা ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এই মন্ত্রোচ্চারিত বন্দেমাতরম সংগীতটির মাধ্যমে।
পরাধীন ভারতের বুকে লক্ষ লক্ষ বিপ্লবীদের উদ্দীপিত করা এই মন্ত্র আমাদের প্রতিটি ভারতবাসীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয় বলে উল্লেখ করেন রাহুল বাবু। তিনি কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান, আজকের এই মহান দিনে ১৮৭৫ এ রচিত সংগীতটি দেশ তথা জাতি গঠনে চলার শক্তিকে নতুন ভাবে জেগে ওঠার মন্ত্রে যেন কাজ করে চলে।



