Barak UpdatesHappeningsBreaking News
যুদ্ধের মকড্রিলে নেই বরাক উপত্যকা

ওয়েটুবরাক, ৬ মেঃ ভৌগোলিক ও কৃটনৈতিক বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও সম্ভাব্য ভারত-পাক যুদ্ধের সতর্কতামূলক মকড্রিলে স্থান পায়নি অসমের বরাক উপত্যকা। এ নিয়ে তিন জেলার সচেতন মহলে জোর চর্চা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, যুদ্ধ বেঁধে গেলে পাকিস্তান এই অঞ্চলকেও তাদের লক্ষ্যস্থল বানাতে পারে। বিশেষ করে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। তারা পাকিস্তানকে সক্রিয় সমর্থন জানালে যুদ্ধের মুখ এ দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে মকড্রিল না হওয়ায় যুদ্ধের আবহে নিরাপদে বাঁচার কৌশল বা সচেতনতা না থাকায় এই অঞ্চলের মানুষকে বিপদে পড়তে হতে পারে।
যুদ্ধের মহড়া বা মক ড্রিলের জন্য সিভিল ডিফেন্স অসমের যে সব জায়গাকে বেছে নিয়েছে, সেগুলি হল বঙ্গাইগাঁও, ডিব্রুগড়, ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, যোরহাট, তিনসুকিয়া, শিবসাগর, তেজপুর, ডিগবয়, দুলিয়াজান, গুয়াহাটি-দিসপুর, রঙ্গিয়া, নামরূপ, নাজিরা, উত্তর লখিমপুর ও নুমলিগড়। এগুলিকে ধরা হয়েছে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির স্থান। এ ছাড়াও, তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে আরও চারটি জায়গাকে। সেগুলি হল দরং, গোলাঘাট, কোকরাঝাড় ও কার্বি আংলং।
ভূমিকম্প সহ নানা ধরনের সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবিলার জন্য কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দিতে মকড্রিল হতে পারলে যুদ্ধের আবহে সতর্কতা ও সচেতনতা থেকে বঞ্চিত কেন এই অঞ্চল। এর সুস্পষ্ট কোনও জবাব কারও কাছে মেলেনি। দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সিভিল ডিফেন্স বলে এখানে কিছু নেই। এই অঞ্চলে এই কাজটা করে ভিলেজ ডিফেন্স অর্গানাইজেশন। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার দায়িত্ব এই সময়ে শুধুই সিভিল ডিফেন্সকে প্রদান করা হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্স ইউনিট বরাকের কোনও জেলায় নেই কেন, মহড়ার জন্য চিহ্নিত অসমের উপরোক্ত স্থানগুলিতে কি ভিলেজ ডিফেন্স নেই, শুধুই কি সিভিল ডিফেন্স। এই সব প্রশ্নে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরাও বিস্মিত। রাজনৈতিক নেতাদের কেউ বলছেন, মুখ্যমন্তীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব। কারও মন্তব্য, এ দিকে যুদ্ধের কোনও ভয় নেই। প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও কাছে জুতসই জবাব মেলেনি। এক পদস্থ আধিকারিক বললেন, এই ধরনের অবস্থায় তাজমহল, কুতুবমিনারের মতো জাতীয় মর্যাদার কাঠামোগুলিকেই লক্ষ্য করা হয়। বরাকে এই ধরনের কিছু নেই বলেই সতর্কতার তালিকাতেও গুরুত্ব পায়নি।
কিন্তু উপত্যকার সচেতন মহল নানা ঘটনার উল্লেখ করে আশঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাদের কথায়, সিপাহী বিদ্রোহ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, এমনকী চিকেন নেক নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, সেই সবের প্রেক্ষিতে বরাক উপত্যকার অবস্থান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শিলচর-বিষ্ণুপুর সড়ক এবং শিলচর রেলওয়ে স্টেশন ছিল জাপানি বোমারুদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যভেদ হওয়ায় বোমা পড়েছিল দার্বি চা বাগানে।
তবে পুলিশের দুই উচ্চপদস্থ অফিসারের বক্তব্য, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে বরাক উপত্যকাকে অবহেলা করার প্রশ্নই ওঠে না। নানা পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যাপক চর্চার মাধ্যমেই যুদ্ধের প্রস্তুতি বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাঁদের কথায়, “এমনটাও হতে পারে, এটা প্রথম পর্যায়ের মকড্রিল। শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচি তৈরি হবে। তখন হয়তো বরাক উপত্যকাতেও মকড্রিল হবে।”



