Barak UpdatesHappeningsBreaking News
মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি, তদন্ত চাইল বরাকবঙ্গ
ওয়েটুবরাক, ২৮ ফেব্রুয়ারি : অসম রাজ্য স্কুল শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের বাংলা মাধ্যমের প্রশ্নপত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি, অসমিয়া শব্দের ব্যবহার এবং বিষয়গত ত্রুটি কেন ঘটলো সে নিয়ে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চাইল। স্কুল শিক্ষা বোর্ডের এই কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়াদের যে ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি নজরে রেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবিও তুলল সম্মেলন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ চন্দ্র দত্ত রাজ্য স্কুল বোর্ডের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র জৈনের কাছে তিন পৃষ্ঠার এক চিঠি লিখে এই তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের দিকটি বিবেচনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থার আবশ্যকতার কথা জানিয়েছেন।
চিঠিতে সাধারণ সম্পাদক দত্ত প্রশ্নপত্রের বহুমাত্রিক অসঙ্গতি ও ত্রুটির দিকটি একে একে তুলে ধরেছেন । বলেছেন, বাংলা ভাষায় সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রটি তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে আদৌ উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিনা এবং প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার সময় এক্ষেত্রে স্কুল বোর্ডের তরফে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি ছিল কিনা সে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার। বাংলা মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরির উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব নেই, এই দিকটি উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদক দত্ত বলেছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অবহেলা এবং দায়বদ্ধতার অভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে। চিঠিতে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন, স্কুল শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান গোটা বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখবেন।
এর আগে সম্মেলনের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহক সমিতি হাইলাকান্দি বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে প্রশ্নপত্রে অসংগতির বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি সতু রায়ের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিভিন্ন সদস্য স্কুল বোর্ডের এহেন কর্মকান্ডে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, যদি এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনার আবারও পুনরাবৃত্তি হতে পারে এবং এজন্য খেসারত দিতে হবে বাংলাভাষী পরীক্ষার্থীদের।
ওই বৈঠকে সাম্প্রতিক হাইলাকান্দি অধিবেশনে বাঙালি জাতিসত্তা এবং বরাক উপত্যকার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গৃহীত দাবি প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করা হয় । স্থির হয়েছে , নির্বাচনের প্রাক্কালে সম্মেলনের তরফে এ সম্পর্কে নির্বাচন প্রার্থীদের অবগত করানোর জন্য নাগরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ করে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। তাছাড়া সম্মেলনের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য বছরব্যাপী কর্মসূচি প্রণয়নের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়েছে। আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন দুই সহ-সভাপতি সুবীর রায় চৌধুরী, মানিক চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ চন্দ্র দত্ত, প্রাক্তন সভাপতি নীতিশ ভট্টাচার্য, দুই প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত ও সব্যসাচী রায়, কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি জেলা সমিতির তিন সভাপতি সঞ্জীব দেবলস্কর, সুবীর বরণ রায় ও দীপক কান্তি আইচ, দুই কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন উদ্দিন লস্কর ও নিজাম উদ্দিন লস্কর, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল পাল, কোষাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, সংগঠনের প্রবীণ সদস্য বিশ্বতোষ চৌধুরী, ইন্দিরা ভট্টাচার্য, দীপক সেনগুপ্ত, সব্যসাচী পুরকায়স্থ, মাশুক আহমেদ, সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত, জিতেন্দ্র নাথ, মনোলীনা নন্দী রায়, সুরজিৎ দেব, সীমান্ত ভট্টাচার্য, নন্দকিশোর বনিক, কার্তিক রায় প্রমুখ।
সভায় আগামী দু বছরের কাজকর্মকে গতিশীল করে তোলার জন্য বিভিন্ন উপ-সমিতি গঠন করা হয়। পাশাপাশি সম্মেলন পরিচালিত দূর শিক্ষা কেন্দ্রের আচার্য পদে বিভাস রঞ্জন চৌধুরীকে পুনরায় মনোনীত করা হয়। কেন্দ্রের নতুন সঞ্চালক মনোনীত হয়েছেন গৌতম প্রসাদ দত্ত। এদিনের সভায় নব নির্বাচিত সভাপতি সতু রায় সম্মেলনের সাংগঠনিক বিস্তৃতি সাধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সবাইকে আরও একনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।



