Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News

মণিপুরি নৃত্যের বিশ্বজোড়া খ্যাতিতে অসীম অবদান শিলচরের: ডঃ সুমিত বসু 

তারাপুরে নৃত্য কর্মশালা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠান

ওয়েটুবরাক, ৩০ জানুয়ারি: মণিপুরি নৃত্যের মূল কথা হচ্ছে ভক্তি। এখানেই অন্যান্য নাচের সঙ্গে তার শৈলীর বিশেষ স্বতন্ত্রতা। তবে বলতে বাধা নেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরেই তাঁর বিশ্বজোড়া পরিচিতি। আর এক্ষেত্রে বিশ্বের দরবারে মণিপুরি নৃত্যকে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে শিলচরের অসামান্য অবদান রয়েছে। বৃহস্পতিবার শিলচরের তারাপুরে এক নৃত্য কর্মশালা পরিচালনা করতে এসে একথা বললেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী ডঃ সুমিত বসু।

ডঃ বসু সঙ্গীত ভবন, বিশ্বভারতীর একজন মণিপুরি নৃত্যের অধ্যাপক। অধ্যাপনার কাজে থাকলেও শিল্পী হিসেবে মণিপুরি নৃত্যে তার আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি রয়েছে। দেশ-বিদেশে কর্মশালা করিয়েছেন । আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্ট বিভাগের পরীক্ষক হিসাবে শিলচরে এসে সংক্ষিপ্ত সময়ে একটি মণিপুরি নৃত্যের কর্মশালাও পরিচালনা করে যান। তারাপুরের সুরশ্রী সংগীতকলা একাডেমি, গোপেন্দ্র মেমোরিয়াল মিউজিক ইন্সটিটিউট এবং পাইওনিয়র সাংস্কৃতিক সংস্থা সম্মিলিতভাবে এই ‘নৃত্য কর্মশালা ও মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পাইওনিয়র সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি ড. গণেশ নন্দীর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. সুমিত বসু বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেখানেই ভালো কিছু পেয়েছেন সংগ্রহ করে তার বিকাশ ঘটাতে তৎপর হয়েছেন। বরাকের মাটি ছুঁয়ে তিনি সিলেট গিয়েছেন। সেখানে দেখা বসন্ত রাস তাকে মুগ্ধ করেছে। এরপরই শান্তিনিকেতনে তিনি মণিপুরি নৃত্য শিক্ষার আয়োজন করেন। প্রথমে ত্রিপুরা থেকে শিক্ষক হিসেবে গিয়েছেন বুদ্ধিমন্ত সিংহকে। পরবর্তীতে মণিপুরি নৃত্যকে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে এবং কবিগুরুর স্বপ্ন সাকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে শিলচর। এখান থেকে নৃত্য শিক্ষা দিতে শান্তিনিকেতন ছুটে গেছেন সেনারিক রাজকুমার, বিপিন সিংহ সহ কত কৃতি। তাদেরই প্রয়াসে মণিপুরি নৃত্য আজ স্বতন্ত্র মহিমায় প্রতিষ্ঠিত। মণিপুরি নৃত্যের উর্বর ভূমি বরাক উপত্যকায় তাই এই নৃত্যধারার আরও চর্চার প্রয়োজন। সেই কাজটাই করতে হবে নতুন সাংস্কৃতিক প্রজন্মকে। তিনি এ অঞ্চলে আরও বেশি করে মণিপুরি নৃত্যের কর্মশালা, আলোচনা এবং চর্চার জন্য আবেদন রাখেন। পাশাপাশি বলেন চমক এবং জনপ্রিয়তার পিছনে দৌড়ালে চলবে না। যথাযথ চর্চা করতে হবে। দক্ষতা থাকলে পরিচিতি এবং প্রতিষ্ঠা আসবেই।

 এদিনের কর্মশালায় প্রায় কুড়িজনের মতো বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী অংশ নেন। মণিপুরি নৃত্যের শৈলী এবং রবীন্দ্র সঙ্গীতে কিভাবে তার প্রয়োগ,  এনিয়ে হাতে কলমে শিখিয়ে দেন সুমিত বসু। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে দিয়ে যান। তবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের নৃত্য প্রতিভার সম্ভাবনা তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান এবং শীঘ্রই বৃহৎ পরিসরে কর্মশালার জন্য এখানে আসবেন বলেও কথা দেন। এদিন ডঃ সুমিত বসুকে স্মারকসহ উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন সুরশ্রী সংগীত কলা একাডেমীর পক্ষে অধ্যক্ষা মিলি সিনহা, গোপেন্দ্র মেমোরিয়াল মিউজিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ গৌতম নন্দী, পাইওনিয়র সম্পাদক মান্না চন্দ, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী গৌতম সিনহা। অনুষ্ঠানে তিনটি সংস্থার সদস্য, অঞ্চলের বাসিন্দা এবং মণিপুরি সমাজের বিশিষ্টজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker