Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভাষাশহিদ স্টেশনের দাবিতে রবিবার গান্ধীভবনে নাগরিক সভা

ওয়েটুবরাক, ২৮ নভেম্বর: শিলচর রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ভাষাশহিদ স্টেশন করার দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর রবিবার গান্ধীভবনে নাগরিক সভা আহ্বান করা হয়েছে। বেলা সাড়ে এগারোটায় আয়োজিত ওই সভায় সকলকে যোগদান করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন শিলচরের ভাষাশহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতির কর্মকর্তারা।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তাঁরা বলেন, ২০০৫ সালে স্টেশনের নাম বদলে ভাষাশহিদ স্টেশন করার দাবিতে লড়াই শুরু হয়। আজও তা অব্যাহত রয়েছে এবং দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। পরবর্তী পর্যায়ে কী ধরনের আন্দোলন সংগঠিত করা হবে, তা চূড়ান্ত করার জন্যই রবিবারের ওই নাগরিক সভা।
ক্ষোভের সঙ্গে সভাপতি বাবুল হোড়, কার্যকরী সভাপতি নিলয় পাল, সহ-সভাপতি নীহাররঞ্জন পাল, মানিক দাস, বাসুদেব ভট্টাচার্যরা বলেন, ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার শিলচর রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ভাষাশহিদ স্টেশন রাখার ব্যাপারে অনুমোদন জানালেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেবনাগরি, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় স্টেশনের নতুন নাম কী রকম লেখা হবে, গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা জানাতে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, আর এতেই চাপা পড়ে যায় ৪০ লক্ষাধিক বরাকবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিপূরণের বিশাল প্রত্যাশা। একেবারে ধরাছোঁয়ার মধ্যে এসে হারিয়ে যায় ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর এ সুযোগ। এক দশকেও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে এই ব্যাপারে আর কোনও জবাব পায়নি কেন্দ্র। তবে আশা ছাড়েননি শিলচরের ভাষাশহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতির কর্মকর্তারা। বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমেই এই দাবি আদায় করবেন তাঁরা।
সাধারণ সম্পাদক ডা. রাজীব কর অতীতের নানা কার্যক্রমের উদাহরণ টেনে বলেন, এই দাবি বরাক উপত্যকার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের, প্রতিটি ভাষাগোষ্ঠীর। ২০০৮ সালে তৎকালীন মন্ত্রী গৌতম রায়ের নেতৃত্বে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৫ বিধায়কের সবাই সেদিন ওই প্রতিনিধি দলে সামিল ছিলেন। শিলচরের বর্তমান বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী নিজে অনেকদিন এই সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে দিল্লিতে গিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে সমিতির প্রতিনিধিত্ব করেন ডা. রাজদীপ রায় ও দীপায়ন চক্রবর্তী। এ ছাড়া, রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বাসুদেব আচারিয়া শিলচরে এলে তাঁর কাছে বাঙালি তো বটেই, পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করে মণিপুরি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, ডিমাসা, হিন্দিভাষী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে রাজীব করের মন্তব্য, “যারা বলেন, আমরা কাজ ফেলে রাখি না, তাদের আমলে নয় বছর ধরে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির কাজটুকু হচ্ছে না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার বলা হয় বটে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ আমাদের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কাছে মোটেও গুরুত্ব পেল না।”
এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ বিমল রায় সহ অমিতাভ দে, সুমন দেব, সৌমিত্র দত্ত রায়, নবেন্দু পাল, শান্তনু রায়, মিন্টু গুপ্ত প্রমুখ।



