Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ে

ওয়ে টু বরাক, ২৯ জানুয়ারি : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ বিভাগ ও গভর্নমেন্ট মডেল কলেজ, বড়খলা-র যৌথ উদ্যোগে “ভারত ও তার প্রতিবেশী : উন্নত ভবিষ্যতের জন্য উদ্যোগ (বিজ্ঞান, সমাজ, অর্থনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি)” শীর্ষক দুদিনের আন্তর্জাতিক সেমিনার বুধবার শেষ হল।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বহুমাত্রিক দিক বিশ্লেষণ করা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার পথ সুগম করা। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক গৌর গোবিন্দ গোস্বামী এবং গভর্নমেন্ট মডেল কলেজ, বড়খলা-এর অধ্যক্ষ ড. সাহাবুদ্দিন আহমেদ। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক দীপেন্দু দাস, যিনি উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ বিভাগের কার্যকরী চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাগত ভাষণ দেন সেমিনারের সমন্বয়ক ড. বরুণজ্যোতি চৌধুরী। তিনি এই সেমিনারের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বীজ ভাষণ প্রদান করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক সমীর কুমার দাস। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন কীভাবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও আধুনিক কূটনীতির পরিবর্তনশীল রূপ ভারত ও তার প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।
সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক অশোক কুমার সেন এবং অধ্যাপক অনুপ কুমার দে। তাঁরা বিজ্ঞান ও সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের পরিবর্তনশীল দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
বিভিন্ন বিদ্যায়তনিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা সংসদের ডিন অধ্যাপক অনিন্দ্য শ্যাম চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সৌগত কুমার নাথ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী ও অধ্যাপক রমাকান্ত দাস। তাঁদের নেতৃত্বে আলোচনায় উঠে আসে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রসঙ্গ, যা এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও আধুনিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করেছে।
দুই দিনব্যাপী এই সেমিনারে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক ও ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। অনলাইন ও অফলাইনে মিলিয়ে প্রায় ৭০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়, যেখানে বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতি, সমাজ ও কূটনীতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয় সীমান্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ, ভারত-বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিনিময়, নদীজল ভাগাভাগি ও পরিবেশগত সংকট, নারী শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তন, প্রযুক্তির ভূমিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
সমাপ্তি অধিবেশনে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সেমিনার শুধু আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেনি, বরং নতুন গবেষণার পথ দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরও গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে চাই। সর্বশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ড. বিশ্বরঞ্জন রায়। তিনি আয়োজকদের পাশাপাশি উপস্থিত গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।



