Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে পাহাড় লাইনের বিকল্প রেলপথের দাবি জানালেন কণাদ

ওয়েটুবরাক, ২৬ জুুনঃ একে শিলচর থেকে রেলে চড়া প্রকৃতিনির্ভর, এর ওপর ঝুঁকি নিয়ে বসে পড়লেও কত সমস্যা যে সামনে আসে ! এ দিকে ভাঙা, ও দিকে ভাঙা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। বেশি টাকায় এসি-তে চড়লে আরও বিপদ। এসি তো নয়, কখনও তা প্রেশার কুকারের চেহারা নেয়। এই সমস্ত সমস্যার কথা তুলে ধরতেই রাজ্যসভার নবনির্বাচিত সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ আজ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর হাতে দুটি পৃথক স্মারকলিপি তুলে দেন।
কণাদ বলেন, লঙ্কা হয়ে গুয়াহাটি-শিলচর রেললাইন নির্মাণ হলে এই সব সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। ২০২২ সালেই যে প্রস্তাবিত রেললাইনের ফাইনাল লোকেসন সার্ভের জন্য বিভাগীয় মঞ্জুরি মেলে, সে কথা মন্ত্রীকে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভবত ওই কাজ শেষ হয়ে এখন ডিপিআর তৈরি হয়েছে। সেটি রেল বোর্ডের কাছে পেশ করা হবে। এখন প্রয়োজনীয় সব কিছুতে অনুমোদন জানিয়ে যুদ্ধকালীন ততপরতায় কাজ শুরু করার জন্য সাংসদ পুরকায়স্থ রেলমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।
তিনি বলেন, শুধু বরাক উপত্যকা নয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুর এই একমাত্র লাইনের ওপর নির্ভরশীল। অসমের পাহাড়লাইন নামে পরিচিত এই লাইন বর্ষার মরসুমে প্রায়ই বন্ধ থাকে। ট্র্যাকের ওপর মাটি ধসে পড়ে, জলস্রোতে লাইনের নীচ থেকে পাথর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এই ধরনের আরও কত সমস্যা যে!
পৃথক এক স্মারকলিপিতে কণাদ ট্রেনগুলির দুববস্থা নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবি করেন, পুরনোদিনের আইসিএফ কোচগুলিকে পুরো বদলে এলএইচবি কোচ প্রদানের জন্য। বিজেপি সাংসদ পুরকায়স্থ পরিষ্কার ভাষায় বলেন, এখনকার যে পরিষেবা তা একেবারেই অসন্তোষজনক। জলের টেপ, ফ্লাস, দরজার লক, দরজার হ্যান্ডল অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ করে না। এসি কামরার যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে টিকিট কেটে কপাল চাপড়ে যেতে হয়। প্রায়ই ঠাণ্ডা হওয়ার বদলে পুরো কামরা গরম হতে থাকে। দমফাটা অবস্থা হয় তখন। কণাদের কথায়, পুরনো কামরা বলেই পাহাড়ে ধীরগতিতে চলার সময় এসি কাজ করতে পারে না।
রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে কণাদ জানান, মন্ত্রী বৈষ্ণব তাঁর কথা মনোযোগ সহ শুনেছেন। তিনি খোলামেলা শিলচর রেলস্টেশনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়ে এসেছেন। মন্ত্রী বিস্তৃত ভাবে তার পরিকল্পনার কথা না জানালেও নতুন সাংসদককে বলেছেন, আগামী ছয়মাসের মধ্যে বরাকবাসীর জন্য সুখবর অপেক্ষা করছে। আইসিএফ কোচগুলিকে বদলে এলএইচবি কোচ লাগানোর কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে মন্ত্রী তাঁকে জানান।



