Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক বদন সিনহা প্রয়াত

ওয়েটুবরাক, ২৮ ফেব্রুয়ারি: প্রয়াত হলেন বরাকের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক তথা ‘তারাপুর পাইওনিয়র সাংস্কৃতিক সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদন সিনহা। বৃহস্পতিবার পৌনে একটা নাগাদ গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৩। রেখে গেছেন স্ত্রী মনিমালা সিনহা, কন্যা শিলচর ডনবস্কো স্কুলের শিক্ষিকা মিলি সিনহা, পুত্র বিক্রম সিনহা সহ অসংখ্য আত্মীয় ও গুণমুগ্ধকে।
৯০- এর দশকে বৃহত্তর তারাপুর অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটা বিশেষ নাম বদন সিনহা। তিনি পাইওনিয়র সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরিতে বিশাল অবদান রেখেছিলেন। বহু ছেলে মেয়েকে দিয়েছিলেন আলোর দিশা। গড়ে তুলেছিলেন সুরশ্রী সংগীত একাডেমি। ১৯৯৮-৯৯ সালে শিলচর পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে উত্তর-পূর্ব সংগীত সম্মেলনের আয়োজন করে বসিয়েছিলেন তারকার হাট। চার দিনের অনুষ্ঠানে হাজার হাজার দর্শকের সামনে হাজির করেছিলেন ভূপেন হাজরিকা, রুনা লায়লা, আরতি মুখোপাধ্যায়, পূর্ণদাস বাউল থেকে সে সময়ে খ্যাতির তুঙ্গ স্পর্শ করা ইন্দ্রনীল সেন, ইন্দ্রানী সেন সহ অসংখ্য গুণী শিল্পীকে। এরপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় সুমন চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে জেলা গ্রন্থাগার মঞ্চে দুদিনের অনুষ্ঠান করিয়েছেন। তাছাড়া কলকাতা থেকে ‘চারনিক’ নাটকের দল নিয়ে আসা সহ একাধিক নাটক ও নৃত্য কর্মশালা করিয়েছেন। গৌড়ীয় নৃত্যের পথিকৃৎ মহুয়া মুখোপাধ্যায় সহ আরও বহু শিল্পীকে এ অঞ্চলে তিনি নিয়ে এসেছিলেন।
পাশাপাশি অঞ্চলের রাস্তাঘাট, পানীয় জল সহ সব সামাজিক আন্দোলনেও নেপথ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন নিয়ত। আবার ১৯৯৫’র জানুয়ারি থেকে ক বছর দাপটের সঙ্গে ‘বরাকবাণী’ নামে একটি দৈনিক পত্রিকা তিনি প্রকাশ করেছেন। সদা হাস্যময়, বিনয়ী, পরোপকারী চরিত্রের জন্য খুব সহজেই মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারতেন। অসীম সাহস এবং অসাধারণ সংগঠনিক গুণের জন্য ১৯৯৬ সালে নেতাজি জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে উপদ্রুত মণিপুরের মৈরাং থেকে শিলচর পর্যন্ত দুর্গম পথে সাইকেল রেলি আয়োজন করার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল।
তবে বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষ হয়েও বিশেষ কারণে বেশ ক বছর থেকেই বরাকের বাইরে ছিলেন। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ বোধ করলে নিয়ে যাওয়া হয় গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে পৌনে একটা নাগাদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ খবরে পরিচিত মহলে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই মরদেহ নিয়ে শিলচরের উদ্দেশে রওনা হন আত্মীয়-স্বজনরা। শুক্রবার সকালে শিলচর শ্মশানঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গুণমুগ্ধ, পরিচিতরা ভিড় জমান শ্মশানে এবং তারাপুরের বাড়িতে। পাইওনিয়র সাংস্কৃতিক সংস্থা এবং সুরশ্রী সংগীত একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করা হয়।



