India & World UpdatesHappeningsBreaking News
বন্দেমাতরম : আহা ! মোদি-রাজনাথের ভাষণগুলো যদি মনের কথা হতো ! বিদ্রুপ মহুয়ার

ওয়েটুবরাক, ৯ ডিসেম্বর: বন্দেমাতরম সংগীত রচনার দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে লোকসভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বিজেপি দল ও তাদের পরিচালিত সরকারকে চাঁছাছোলা আক্রমণ করেন৷
“সরকারের ইচ্ছেয় এই যে আলোচনা হচ্ছে, সেখানে খুব মনোযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তৃতা শুনলাম। প্রতিটি কথা কী সুন্দর ! আহা, এগুলো যদি তাঁদের মনের কথা হতো!” এমন বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যে ভাষণ শুরু করেন মহুয়া৷ এর পরেই জানতে চান, হঠাৎ সরকারের এমন ইচ্ছে হলো কেন যে, বন্দেমাতরম সঙ্গীত রচনার দেড়শো বছর নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিলেন? নিজেই এর জবাব দেন৷ বলেন, “ছাব্বিশে বাংলায় ভোট যে! এই সময়ে এমন আলোচনা একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷ তাঁদের দলের আইটি সেল হয়তো প্রস্তাব দিয়েছে, এখনই বন্দেমাতরম কার্ডটা ঠিকঠাক খেলে দিতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে আর চিন্তা নেই৷”
মহুয়া বলেন, “তবু আমরা আলোচনাকে স্বাগত জানাই৷ এই আলোচনাতেই প্রমাণ করে দেব, বিজেপি বাংলার মাটিতে কতটা জনবিচ্ছিন্ন৷ বিজেপির সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক লাভালাভে আমাদের মা অন্য কারও হয়ে যাবেন না৷”
এই গানের প্রতি বিজেপির দরদ প্রদর্শনকে “বড় বাজে একটা কমেডি চিত্রনাট্য” বলেও উল্লেখ করেন সাংসদ মৈত্র৷ বন্দেমাতরম গান বিজেপির কেউ ঠিকঠাক গাইতে পারবেন কি, এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে মহুয়ার মন্তব্য, “শাসক দলটির স্বাধীনতা সংগ্রামের কোনও যোগ আছে কি, এরা যে এবার বন্দেমাতরম নিয়ে অভিভাবকত্ব দাবি করছেন!” ধর্মীয় বিভাজনের জন্য বিজেপিকে অভিযুক্ত করে মহুয়া বলেন, এটাই বন্দেমাতরম গানের মূল সুরকে প্রতিহত করে৷
তাঁর সরাসরি আক্রমণ, এরা চাঁদকেও বিভাজিত করে দিচ্ছে৷ করভা চৌথ সেরে হিন্দু মহিলারা ছাদে গিয়ে চাঁদকে সাক্ষী রেখে তাঁদের ব্রত সম্পন্ন করতে পারেন, কিন্তু ওই ছাদে মুসলমান মহিলারা চাঁদ দেখে ইদের নামাজ পড়তে পারেন না৷
একজন প্রকৃত বাঙালি হিসেবে, দশকোটি বাঙালির একজন হয়ে তিনি সংসদে কথা বলছেন, এ কথা জানিয়েই বাঙালিদের প্রতি বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন৷ বলেন, “বাঙালিদের তো আপনারা বাংলাদেশি বলেন, পথেঘাটে অপদস্থ করেন, ধরে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেন৷”
বন্দেমাতরমের ব্যাখ্যা করেও মহুয়া বিজেপিকে তিরবিদ্ধ করেন৷ বলেন, এতে যে ‘সুজলাং সুফলাং’ বলা হয়েছে, বিজেপি আমলে এর কী মিলছে? ভারতে ৭০ শতাংশ জল পানের অযোগ্য৷ ১২২ দেশের জলের গুণমান পরীক্ষা করে ভারতের স্থান হয়েছে ১২০ নম্বরে৷ এর পরও কেন্দ্র জল জীবন মিশনের টাকা আটকে রেখে দেয়! পশ্চিমবঙ্গেরই পাওনা রয়েছে ৩০০০ কোটি টাকা৷ ‘মলয়জশীতলাম’ প্রসঙ্গে তিনি টেনে আনেন দিল্লি দূষণের কথা৷ ‘সুহাসিনীং’ বলে মহুয়া মৈত্র ”বিজেপির প্ররোচনামূলক ঘৃণ্য মন্তব্যে”র দিকে লোকসভার সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷



