Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বঙ্গভবনে জুবিনের শোক সমাবেশে সামিল নানা ভাষা-ধর্মের নারী-পুরুষ

ওয়েটুবরাক, ২২ সেপ্টেম্বরঃ “আমার কোনও জাত নেই, কোনও ধর্ম নেই। আমি মুক্ত।” বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এমন কথা যিনি বলতে পারেন, সেই কিংবদন্তী শিল্পী জুবিন গর্গকে শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন ভাষা-ধর্মের নারী-পুরুষ সামিল হবেন, এমনটাই স্বাভাবিক ছিল। সোমবার বঙ্গভবনে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সমিতি আয়োজিত শোক সমাবেশে বাস্তবিক অর্থে এমনটাই হলো। সম্মেলনের জেলা সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্করের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন অসম সাহিত্য সভার জেলা সভাপতি যোগেশ বর্মন, নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভার কেন্দ্রীয় সমিতির সম্পাদক প্রধান ড. স্বপন সিনহা, বিভিন্ন মারোয়ারি সংগঠনের কর্মকর্তা কমল সারদা। তাঁরা ছাড়াও বক্তাদের তালিকায় ছিলেন সম্মেলনের জেলা সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরী, জিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসরফ হোসেন, কাছাড় কলেজের অধ্যাপক হেমন্ত বরা, আবগারি বিভাগের অধীক্ষক শান্তনু হাজরিকা, ড. রমাপ্রসাদ বিশ্বাস, ড. সন্তোষ চক্রবর্তী, নাট্যাভিনেতা মহাদেব চক্রবর্তী প্রমুখ। সকলেই জুবিনকে উত্তর-পূর্বের অমূল্য সম্পদ বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, শিল্পী জুবিন হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি মানুষ জুবিন হয়ে উঠেছিলেন, সে জন্যই তাঁর অকালপ্রয়াণে গোটা রাজ্যের মানুষ শোকস্তব্ধ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ অনুরাগী তাঁর মৃতদেহে শ্রদ্ধা জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
তৈমুর রাজা চৌধুরী তাঁর প্রতি শোকজ্ঞাপনের নানা আয়োজন তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা মানুষ জুবিনের আদর্শকে অনুসরণ করতে পারব।সঞ্জীব দেবলস্কর স্মৃতি আউড়ে শোনান, জুবিনের কৈশোরে তাঁদের দেখা হয়েছিল। জুবিন সেদিন তাঁকে একটি বাংলা গান শুনিয়েছিলেন। তিনি নিজে তাঁকে তাঁর অসমিয়া রূপটি শোনাতে বললে আধঘণ্টার মধ্যে শিখে তাও শুনিয়ে দেন। বাংলায় বক্তৃতা করে হেমন্ত বরা জানান, তাঁরা একটি নাটকের ব্যাপারে কথা বলতে জুবিনের কাছে গিয়েছিলেন। শুনেই তিনি বলে দেন, এই নাটকের মিউজিক ডিরেক্টর হবো আমি। প্রথমে অবিশ্বাস্য ঠেকলেও জুবিন ঠিকই নাটকের সঙ্গীত নির্দেশনা করেছিলেন। এমনকি নাটকের দিন হলেও গিয়েছিলেন। স্বপন সিনহা শোনান, তাঁর অভিনীত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সিনেমায় গান গেয়েছিলেন জুবিন। তিনি গানের ও গল্পের সমস্ত কথা জেনেই কাজে সম্মত হয়েছিলেন। পরে কোরিওগ্রাফারকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সদস্য ড. পরিতোষ দত্ত। সঙ্গীতে নিপু শর্মার সঙ্গে সুর মেলান বাপী রায়। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সীমা পুরকায়স্থ ও মেঘরাজ চক্রবর্তী। স্বরচিত কবিতা পড়ে শোনান হাসনা আরা শেলী। বাঁশীতে জুবিনের গানের সুর তোলেন সৌমেন পালচৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক অভিজিত ধর।



