Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ফি নিয়ে, পরীক্ষা নিয়ে, টেট পাশের পর এখন ডিপ্লোমার সময় নিয়ে প্রশ্ন!

// উত্তমকুমার সাহা //
২৫ জুনঃ টেট পাস করে নথিপত্র পরীক্ষার জন্য ডাক পেয়েও চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন বহু যুবক-যুবতী। এরা মাধ্যমিকে অসমের সরকারি ভাষা অর্থাৎ অসমিয়া, বাংলা বা বোড়ো ভাষা পড়েননি। তবে এই ধরনের ক্ষেত্রে সরকারি যে নিয়ম রয়েছে, তা মেনেই অসম সাহিত্য সভা বা বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন থেকে অসমিয়া বা বাংলায় ডিপ্লোমা করেছেন। টেট-এ বসার জন্য আবেদনের বিজ্ঞপ্তিতে সে কথারই উল্লেখ ছিল। কিন্তু আবেদন করার ফর্মে কোথাও এ সম্পর্কীত কোনও তথ্য যেমন চাওয়া হয়নি, তেমনি নিজে থেকে এই ধরনের তথ্য জানানোর কলামও ছিল না। ফলে অসমিয়া বা বাংলার ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থীরাও তখন আবেদন করেন, ফি জমা করে টেট-ও দেন। কোনও পর্যায়েই তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়নি, বাংলা বা অসমিয়ায় ডিপ্লোমা সম্পন্ন হয়েছে কিনা। এমনকী, ওই তথ্য সংগ্রহ ছাড়াই তাদের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাদের অবশ্য তাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু যারা টেটের মাধ্যমে চাকরির জন্য মনোনীত হয়েছেন, তাঁরা এখন চরম মানসিক যন্ত্রণায়। নথিপত্র পরীক্ষার সময় একমাত্র বিবেচ্য হচ্ছে, টেটে বসার জন্য আবেদনের সময়ে বাংলা বা অসমিয়ায় ডিপ্লোমা করা হয়ে গিয়েছিল কিনা।
এরা ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর টেটে বসার আবেদন জমার শেষদিনে ডিপ্লোমা শেষ না করলেও এরই মধ্যে ডিপ্লোমার চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসে, পাস করে সার্টিফিকেটও পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষকরা ওই সার্টিফিকেটকে ধর্তব্যে আনছেন না। তাঁরা অসম সাহিত্য সভা বা বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের ২০২৫ সালের সার্টিফিকেট দেখলেই তা খারিজ করে দিচ্ছেন। তাঁদের কাছে যে নির্দেশিকা রয়েছে, তাতে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বা তার আগের সার্টিফিকেটই বৈধ বলে গৃহীত হবে।
এ নিয়ে উদ্বেগে ডিপ্লোমা প্রদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রাজ্যের দুই সাহিত্য সংগঠনও। অসম সাহিত্য সভা এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি পাঠিয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। স্মারকপত্র পাঠানো হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী রণোজ পেগু এবং শিক্ষা সঞ্চালক মমতা হোজাইর কাছেও।
তাঁদের আর্জি, যেহেতু তাদের টেটে বসার আবেদন পত্র খারিজ করা হয়নি, তাদের কাছ থেকে ফি আদায় করে পরীক্ষায় বসার যোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়েছে এবং ফল প্রকাশ করে চাকরির জন্য মনোনীতও করা হয়েছে, এখন যাতে তাদের বঞ্চিত করা না হয়। বিশেষ করে, এই সময়ে যেহেতু তাঁরা নিয়োগের সমস্ত শর্ত পূরণ করে নিয়েছেন, ডিপ্লোমা গ্রহণ করে নিয়েছেন, ফলে তাদের ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটকে স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। অসমিয়া ও বাংলার ডিপ্লোমাধারী বেশ কয়েকজন একই যুক্তিতে ব্যক্তিগত ভাবেও আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এ নিয়ে তাদের প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগতে হচ্ছে।



