India & World UpdatesHappeningsBreaking News

ফাঁসি হয় ভুট্টোর, মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনতে হয়েছিল মুশারফকেও

ওয়েটুবরাক, ১৮ নভেম্বর: প্রাক্তন পাক সেনাশাসক পারভেজ মুশারফকেও হাসিনার মতোই গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল। বিদেশে থাকাকালীন হাসিনার মতোই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে জীবদ্দশায় আর পাকিস্তানে ফিরতে পারেননি তিনি। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনা সরকারের তত্ত্বাবধানে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান জুলফিকর আলি ভুট্টোকে।

১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউল হক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন তাঁকে। কিছু দিনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের সেনা সরকার। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় এক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুনের অভিযোগ। পিপিপি-র প্রতিষ্ঠাতা ভুট্টো সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ১৯৯৯ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন মুশারফ। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন তিনি। পাক পার্লমেন্টে আনা ইমপিচমেন্ট এড়াতে ২০০৮ সালের আগস্টে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সে বছরেরই নভেম্বরে পাকিস্তান ছেড়েছিলেন। ইস্তফা দেওয়ার এক বছর আগেই অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সংঘাত এবং বিরোধীদের তীব্র আন্দোলনের জেরে ‘অবাধ’ পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপ জেনারেলকে।

২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মুশারফের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল পেশোয়ার হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। ২০০৭ সালে সংবিধান বাতিল করে সাংবিধানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য তিন সদস্যের বেঞ্চ তাঁকে ওই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দিয়েছিল। ২০১৪ সালে মুশারফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গঠিত চার্জের ভিত্তিতে দেওয়া ১৬৭ পাতার সেই রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে যদি মুশারফের মৃত্যু হয়, তা হলে তাঁর মৃতদেহ ইসলামাবাদের ডি-চকে নিয়ে আসতে হবে। সেখানে তা তিন দিন ঝুলিয়ে রাখতে হবে! যদিও ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডন থেকে কফিনবন্দি করে করাচি ফেরানোর পরে আর ঝোলানো হয়নি মুশারফকে। আবার লন্ডনে প্রয়াণের পরে ‘দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন’— এই অভিযোগে পাকিস্তান পার্লামেন্টের সদস্যেরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধাও জানাননি। লন্ডন থেকে দেহ এনে করাচির গুলমোহর পোলো গ্রাউন্ডের মসজিদে পারিবারিক প্রার্থনার পর এক ফৌজি গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই এবং প্রায় নীরবে সমাধিস্থ করা হয়েছিল মুশারফকে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker