NE UpdatesHappeningsCultureBreaking News
নগাঁওয়ের কামপুরে রাজধানীর ধাক্কায় ৭টি হাতির মৃত্যু, ৫টি কোচ লাইনচ্যুত

নগাঁও, ডিসেম্বর ২০ : শুক্রবার গভীর রাতে এক দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সমগ্র রাজ্য। ঘন কুয়াশার মধ্যে মিজোরাম থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাতটি বুনোহাতির। নগাঁও জেলার কামপুরের চাংজুরাই এলাকায় মধ্যরাতে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘন কুয়াশার মধ্যে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় সাতটি বুনো হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন বিভাগের কর্মীরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাতটি হাতি নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও একটি হাতির শাবক গুরুতর জখম হয়। আহত হাতির শাবকটিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্ধার করে রাতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে বৃহত্তর এলাকাজুড়ে বুনো হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত বেড়ে চলেছে। একটি হাতির দল ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল বলেও জানান স্থানীয়রা। এই অবস্থায় শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় সাতটি হাতির প্রাণহানি ঘটে। স্থানীয় বন সংমণ্ডল আধিকারিক জানান, ইতিমধ্যেই পশু চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং মৃত হাতিগুলোর ময়নাতদন্তের পাশাপাশি আহত হাতির শাবকটির চিকিৎসাও শুরু হয়েছে। এদিকে, রাতের এই দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী এক্সপ্রেসের পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। বরাতজোরে কোনও যাত্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রেলপথ পুনরায় চালু করার জন্য রেল বিভাগ তৎপরতা শুরু করেছে। একসঙ্গে সাতটি বুনো হাতির করুণ মৃত্যুর খবরে প্রকৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যবাসী গভীরভাবে শোকাহত। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লিগামী ট্রেনটি শনিবার ভোর প্রায় ২টা ১৭ মিনিটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নগাঁও বিভাগের বন আধিকারিক জানান, হোজাই জেলার চাংজুরাই এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি এবং বন বিভাগের অন্যান্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত যমুনামুখ–কামপুর অংশ দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলিকে আপ লাইনের মাধ্যমে ডাইভার্ট করা হয়েছে এবং রেলপথ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আধিকারিক। উল্লেখ্য, সাইরাং–নতুনদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসটি মিজোরামের সাইরাং থেকে দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনাল পর্যন্ত চলাচল করে। ইতিমধ্যেই গুয়াহাটি রেল স্টেশনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হলো— ০৩৬১-২৭৩১৬২১ / ২৭৩১৬২২ / ২৭৩১৬২৩।
ঘটনা সম্পর্কে এনএফ রেলওয়ের মালিগাঁওস্থিত কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর ভোর প্রায় ২টা ১৭ মিনিটে এনএফ রেলওয়ের লামডিং বিভাগের অন্তর্গত যমুনামুখ–কামপুর অংশে এক দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২০৫০৭ ডাউন সাইরাং–নতুনদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির ইঞ্জিন ও ৫টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। তবে কোনও যাত্রীর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলটি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভাগীয় প্রধান কার্যালয়ের আধিকারিকরা দুর্ঘটনা-সহায়ক ট্রেন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
এনএফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার এবং লামডিং বিভাগের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার সহ ঊর্ধ্বতন রেল আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের পৌঁছেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলির যাত্রীদের অন্য কোচের খালি আসনে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলি সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রেনটি ভোর ৬টা ১১ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা হয়।
রেল বিভাগ জানিয়েছে, ট্রেনটি গুয়াহাটিতে পৌঁছানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে এবং তারপর ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করবে। বিভাগ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি নির্দিষ্ট কোনও হাতি করিডোর নয়। হাতির দলটি দেখতে পেয়ে লোকো পাইলট জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর আগেই ট্রেনটি হাতিগুলিকে ধাক্কা দেয়। এনএফ রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মার জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই অংশ দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলিকে আপ লাইনের মাধ্যমে ডাইভার্ট করা হয়েছে এবং রেলপথ পুনরুদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।


