Barak UpdatesHappeningsBreaking News
দৃষ্টান্তমূলক! প্রান্তজ্যোতির বেতনবঞ্চিত কর্মীদের পাশে নাগরিক সমাজ

ওয়েটুবরাক, ২০ ফেব্রুয়ারি: প্রান্তজ্যোতি দৈনিক পুনরায় চালু তথা পূর্ববর্তী ত্রিপাক্ষিক চুক্তিপত্র অনুযায়ী কর্মচারীদের ছয় মাসের বকেয়া মিটিয়ে দেবার দাবিতে জেলাশাসকের সাথে দেখা করলেন প্রান্তজ্যোতি দৈনিকের কর্মীমহল সহ শহরের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
তাঁদের অভিযোগ, গত বছরের ২৫ অক্টোবর তাৎক্ষণিক ‘ শাটডাউন ‘ ঘোষণার পর থেকে প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। অথচ জেলাশাসক ও সহকারী শ্রম কমিশনের উপস্থিতিতে আয়োজিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তিপত্রে দেওয়া কোনও অঙ্গীকারই এযাবৎ পালন করেননি দৈনিকের চালক নিলয় পাল ।
শিলচর শহরের নাগরিক সমাজ গোড়া থেকেই প্রান্তজ্যোতি দৈনিকের শোষিত বঞ্চিত কর্মীদের বিষয়ে সোচ্চার ও সমব্যথী। ত্রিপাক্ষিক চুক্তির পর নাগরিকরা প্রায় সত্তর জনের গণস্বাক্ষর করা আবেদনে চুক্তির তিনটি শর্ত পালনের আর্জিও জানান। অভিযোগ, সরকারি চুক্তি সকল পক্ষের আবেদন অমান্য ও অগ্রাহ্য করে নিলয় পাল লাগাতার কর্মীদের বঞ্চিত করতেই থাকেন এবং শর্ত ভেঙে একাংশ কর্মীর শুধুমাত্র বকেয়ার অর্ধেক অর্থ মিটিয়ে দেন।
এদিনের আলাপচারিতায় জেলাশাসককে বিস্তৃত জানান ভুক্তভোগী কর্মী এবং নাগরিকরা। জেলাশাসক দূরভাষে এনিয়ে অতিরিক্ত শ্রম কমিশনারের সাথেও কথা বলেন। শেষে এনিয়ে অবিলম্বে আরও একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যাবস্থা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে সবাইকে আশ্বাস দেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগরিকদের পক্ষে অজয় রায় বলেন, শেষ ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কর্মীদের বকেয়া বেতন প্রদান, পত্রিকা পুনরায় চালু করা এবং পুরনো কর্মীদের আবার নিযুক্তি দেওয়া হবে বলে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন দৈনিক প্রান্তজ্যোতির চালক নিলয় পালের প্রতিনিধি আইনজীবী। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একাংশ কর্মীদের বকেয়ার একটি অংশ দেওয়া হয়েছে বাকিদের কিছুই দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তাঁরা চান বকেয়া প্রদানের পাশাপাশি লিখিত প্রতিশ্রুতিমতো ঐতিহ্যবাহী এই দৈনিক পুনরায় চালু হোক এবং পুরনো কর্মীদের কথামত পুনর্বহাল করা হোক। নাগরিকরা আশাবাদী যে জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে সত্বর এই সমস্যার সুরাহা হবে।
প্রান্তজ্যোতি কর্মীমহলের পক্ষ থেকে এদিন পরম ভট্টাচার্য বলেন, জেলাশাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় একসাথে ছয় মাসের বকেয়া দেওয়া হবে বলে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন মালিক পক্ষের প্রতিনিধি। কিন্তু এযাবৎ একাংশ কর্মীদের শুধু তিনমাসের বকেয়া দেওয়া হয়েছে, বাকিদের তাও জোটেনি। তিনি বলেন এটি স্পষ্টতই বেআইনি। পরম বলেন, তাঁরা সম্পূর্ণ আইন মেনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছেন কিন্তু তাঁর পরিবর্তে মালিকপক্ষ অধস্তন কর্মচারী মারফৎ তাঁকে শারীরিক নিগ্রহের বার্তা অব্দি পাঠিয়েছেন। তিনি এদিন আরও বলেন, প্রান্তজ্যোতি সহ শহরের একাংশ সংবাদ কর্মীর চাকরির কোনও নিরাপত্তা নেই। তাঁদের নিয়োগপত্র নেই, বেতন কাঠামো নেই, পিএফ, গ্র্যাচুইটি কিছুই নেই।
তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের চুপ না থেকে তাঁদের এই আন্দোলনে সামিল হওয়া জরুরি, অন্যথায় যে কোনও কেউ, যে কোনও সময় একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন।
এদিন নাগরিক প্রতিনিধি ও প্রান্তজ্যোতি দৈনিকের কর্মীরা সহকারী শ্রম কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁদের দাবির প্রতিলিপি জমা দিয়ে শ্রমিকদের দূর্দশা মুক্তির জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানান। শ্রম পরিদর্শক জ্যোতিষ নাথ সময়োচিত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন যে জেলা শাসকের পদক্ষেপ এ ব্যাপারে দিকদর্শী হতে পারে।
এদিনের কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হরিদাস দত্ত, আলি রাজা ওসমানি, দীপঙ্কর চন্দ, জয়দীপ ভট্টাচার্য, কমল চক্রবর্তী, সত্যজিৎ গুপ্ত, সঞ্জয় চক্রবর্তী, সুজিৎ দাস, সন্তোষ চন্দ, গোরা চক্রবর্তী, পার্থ প্রতিম দাস, সুমিত দাস, রবিশঙ্কর ভট্টাচার্য, রূপম ভট্টাচার্য, দীপঙ্কর সোম, বিক্রমজিত ভট্টাচার্য, সুমিতা ভট্টাচার্য, দেবজ্যোতি দত্ত চৌধুরী, অজয় রায়, কৃষ্ণেন্দু রায়, মন্দিরা ভট্টাচার্য, চিন্ময় ভট্টাচার্য, অনন্যা মোহন্ত, প্রান্তজ্যোতি দৈনিকের কর্মীবৃন্দ ছাড়া আরও অনেকে।
উপস্থিত নাগরিকদের পক্ষ থেকে রবিশঙ্কর ভট্টাচার্য ও দেবজ্যোতি দত্ত চৌধুরী এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।