Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ডলু নয়, খরিলে হোক গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

ওয়েটুবরাক, ৩০ জুন: ডলুতে এয়ারপোর্ট তৈরির নামে উন্নয়নের তকমা লাগিয়ে যে কাজগুলো করা হচ্ছে তাতে বিপন্নতার সম্মুখীন হচ্ছেন দুই হাজারেরও বেশি বাগান শ্রমিক এবং ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ধাবমান হচ্ছে পরিবেশ। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে এবং প্রস্তাবিত এয়ারপোর্টটি অথরিটির ক্লিয়ারেন্স থাকা খরিল চা-বাগানে স্থানান্তরিত করার দাবি জানিয়ে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির পক্ষ থেকে দু’টি পৃথক মেমোরেন্ডাম প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, শিলচরে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট তৈরির জন্য এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া তিনটি জায়গাতে সার্ভে করে — ডলু, খরিল ও শিলকুড়ি। ডলু চা- বাগান ছাড়াও প্রায় পরিত্যক্ত চা-বাগান ‘খরিল’ ছিল তালিকার দুই নম্বরে এবং খরিলেও এয়ারপোর্ট তৈরি সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেছিল সেই সার্ভে। কিন্তু, তার পরেও ফলনশীল ও লাভজনক চা-বাগান ডলুতে গত ২০২২ সনের ১২ মে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্টের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে সরকার।
যেহেতু পরিবেশ রিপোর্ট ছাড়াই জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার এবং এই অধিগ্রহণ করার সময়ে প্রায় ৪২ লক্ষ চা-গাছ ও কয়েক হাজার ছায়াগাছ উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাই বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বেআইনি উচ্ছেদের যে বিরূপ প্রভাব পড়বে সেই নিশ্চিত ধারনা থেকে ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির কলকাতা শাখা ও পরিবেশকর্মীদের আরও দু’টি সংগঠন শান্তি গণতন্ত্র সংহতি মঞ্চ এবং সমাজ বিজ্ঞান ও প্রকৃতি পরিচয় পত্রিকার তরফে যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা রুজু করে। সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ৬ মে তারিখে ওই মামলার রায় দান করে বলে যে, অধিকৃত জমির পরিবেশ সমীক্ষা করতে হবে ২০২২ সনের ১২মে তারিখে বিপুল পরিমাণ চা-গাছ ও হাজার হাজার ছায়াগাছ ধ্বংসের পূর্বাবস্থাকে বিবেচনায় রেখে।
এ সব জানিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, অথচ গত ২৩ জুন পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনে একটি গণশুনানি আহ্বান করা হয়। সেখানেও নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বলেন, এই ধরনের গণশুনানি করার বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম হচ্ছে যে, একমাস আগে গণশুনানির জায়গা ও সময় নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। তার ব্যাপক প্রচার করা হয় এবং প্রজেক্ট এলাকার ১ কি.মি. ব্যাসার্ধের মধ্যে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়। কিন্তু এখানে মাত্র ৯ দিনের নোটিশ জারি করে গণশুনানিকে হাতিছড়া জিপিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। যারা সবচেয়ে বেশী ভুক্তভোগী, সেই ডলু চা-বাগানের শ্রমিকদের কথা শোনার কোনোও প্রয়োজন অনুভব করেননি। এ ছাড়া, জমি অধিগ্রহণ করে পরবর্তীতে পরিবেশ সমীক্ষার আয়োজনও সরাসরি আইন অমান্য বলে উল্লেখ করে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি।
এতসব অনিয়মের বলি যাতে গরীব চা-শ্রমিকদের না হতে হয় , সেটা নিশ্চিত করার জন্য এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি। ডলু চা-বাগানের ভুক্তভোগী শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে মান্যতা দিয়ে প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্টটি , এএআই-এর সার্ভে রিপোর্টে সম্ভাব্য স্থান বলে উল্লেখ থাকা খরিল চা-বাগানে স্থানান্তরিত করার দাবি জানায়।
আজ কাছাড়ের জেলাশাসকের মারফত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মেমোরেন্ডাম প্রেরণের সময় উপস্থিত ছিলেন অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের কাছাড় জেলা সভাপতি মৃণাল কান্তি সোম সহ মানস দাস, বলরাম বিশ্বাস ও ডলু ইউনিটের পক্ষে কুঞ্জলতা ঘাটোয়ার, নীলিমা ভূমিজ, কমলজিৎ তেলী , অর্জুন, রাজু রী, লক্ষীন্দর তেলী। ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ফারুক লস্কর, বিশ্বজিৎ দাশ ও অরিন্দম দেব।



