Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ঝুমুর পান্ডেকে শহিদ কমলা-সুদেষ্ণা স্মৃতি সাহিত্য সম্মাননা

ওয়েটুবরাক, ২১ জানুয়ারি: বরাক ফোরাম-এর আয়োজনে “শহিদ কমলা-সুদেষ্ণা স্মৃতি সাহিত্য সম্মাননা ২০২৫” অর্পণ করা হলো বিশিষ্ট সাহিত্যিক ঝুমুর পান্ডেকে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলচর শহরের দাস কলোনি স্থিত ভাবীকাল নাট্য সংস্থা ওয়ার্কসপ সেন্টারে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বরাক ফোরামের চার আহ্বায়ক অভিজিৎ পাল, দীপায়ন পাল, দোলনচাঁপা দাস পাল ও দেবরাজ দাশগুপ্ত সাহিত্যিক ঝুমুর পান্ডের হাতে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন। পরে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ঝুমুর পান্ডে বরাক ফোরামের কাজকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “কবি-লেখকদের লেখালেখিতে একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন। কারণ আমাদের লেখা মানুষের মনে প্রভাব পড়ে। মনে রাখতে হবে, লেখা মরে যায় না, সেগুলিই থেকে যায়।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে বরাক ফোরামের আহ্বায়ক দেবরাজ দাশগুপ্ত “শহিদ কমলা-সুদেষ্ণা স্মৃতি সাহিত্য সম্মাননা “-র ভাবনা ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতি বৎসর বরাক উপত্যকায় সাহিত্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন এমন একজন নারী ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা অর্পণ করা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে বরাক উপত্যকার দুই মহিলা ভাষাশহিদ নামাঙ্কিত এই সম্মাননা প্রদান শুরু হয়। এর আগে মহুয়া চৌধুরী, শিখা ভট্টাচার্য, স্বপ্না ভট্টাচার্য, কাজল দেমতা এই সম্মানে ভূষিত হন।
বরাক ফোরামের আরেক আহ্বায়ক দীপায়ন পাল জানান, কোনও ধরনের সরকারি-বেসরকারি অনুদান ছাড়াই তাঁরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দীপঙ্কর ঘোষ । তিনি বলেন, “ঝুমুর পাণ্ডের গল্প যেন সুন্দর একেকটা ছবি। তিনি দুঃখ-বেদনার কথা যখন বলেন, তখন তা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও দেখান।” দীপঙ্কর লেখিকা ঝুমুর পান্ডেকে ‘মননশীল সমাজ গঠনে এক বাতিঘর’ বলে উল্লেখ করেন।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড: দুর্বা দেব বলেন, ঝুমুর পান্ডে বরাক উপত্যকার প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। ধারাবাহিক উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রেও তিনিই এই অঞ্চলে প্রথম। তাঁর ‘দেশভাগ এক দহন যন্ত্রণা’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়ানো হয় বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন “প্রতিস্রোত” সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক সুজিৎ দাস, “আমাদের সমকাল” পত্রিকার সম্পাদক স্নিগ্ধা নাথ , বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, “সৃষ্টি’র আঙিনায়” ই-সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ড: শমিতা ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী সাধন পুরকায়স্থ, রবিশঙ্কর ভট্টাচার্য, শঙ্কর চন্দ্র নাথ প্রমুখ। আবৃত্তি করেন রিয়া চন্দ ও সঙ্গীতা দেব। গান গেয়ে শোনান নীলাক্ষ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন “সাহিত্য সম্ভার” পত্রিকার সম্পাদক প্রণব কান্তি দাস, ” ভাবীকাল ” নাট্য সংস্থার নির্দেশক শান্তনু পাল, জয়শ্রী ভট্টাচার্য, সুখেন দাস, প্রাঞ্জল পাল, আদিমা মজুমদার, সুমন পাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শর্মী দে ও রাখী দেব সম্পাদিত কবিতা সঙ্কলন “অনুভূতি”-র দ্বিতীয় সংখ্যাও উন্মোচন করা হয়।



