Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জগন্নাথ সিং কলেজে নানা কর্মসূচিতে ‘সামাজিক সপ্তাহ’ পালিত

ওয়েটুবরাক, ৩১ জানুয়ারি: উধারবন্দ জগন্নাথ সিং কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ‘সামাজিক সপ্তাহ’ সম্পন্ন হলো। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে ২৯ জানুয়ারি। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে ছিল খেলাধূলা, সৃজনশীল প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে ‘সামাজিক সপ্তাহ’ কর্মসূচির সূচনা হয়। মাল্যদানের পর নেতাজির জীবনাদর্শ এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় ভূমিকা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অলিম্পিক ঐতিহ্যের আদলে স্পোর্টস মশাল প্রজ্জ্বলন করেন মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি সোমনাথ দেব এবং অধ্যক্ষ এস সমরেন্দ্র সিংহ । সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্দীপনার সঞ্চার করে, যা পুরো সপ্তাহ জুড়ে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে জাগ্রত রেখেছিল। এরপর টানা সাত দিন ধরে কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর গেমসের আয়োজন করা হয়। ক্রিকেট, ভলিবল থেকে শুরু করে ক্যারম এবং দাবা প্রতিযোগিতায় ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পর্বে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া এনে দেয় কলেজের বিভিন্ন সেল। উইমেন্স সেলের উদ্যোগে আয়োজিত মেহেন্দি প্রতিযোগিতা এবং মনোমুগ্ধকর লোকনৃত্য প্রতিযোগিতায় ছাত্রীরা তাঁদের শৈল্পিক প্রতিভার সাক্ষর রাখে। অন্যদিকে, স্পোর্টস সেলের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত টাগ অফ ওয়ার এবং ব্লাইন্ড হিট-এর মতো গ্রামীণ ও প্রচলিত খেলাগুলো দর্শক-ছাত্রদের অফুরন্ত আনন্দ উপহার দেয়।
সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ২৯ জানুয়ারি, অনুষ্ঠানের শেষ দিনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রকাশনা ‘মিউজ’-এর আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। এটি একটি আইএসবিএন স্বীকৃত সংকলন, যা সৃজনশীল লেখনী ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ দিয়ে সমৃদ্ধ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কলেজের সাংস্কৃতিক শাখার সমন্বয়ক তথা বাংলা বিভাগের প্রধান ড. বাসবী পাল সেন এবং সহকারী অধ্যাপিকা ড. নন্দিতা দাস।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনিপুরি বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক এইচ ননী কুমার সিংহ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পান্না দেব, অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ক্ষৌনিশ চক্রবর্তী। তাঁরা ইংরেজি বিভাগের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

কলেজের ক্রীড়া শাখার সমন্বয়ক তাঁর সমাপনী ভাষণে বলেন, “সামাজিক সপ্তাহ শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি ছাত্রছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের একটি পূর্ণাঙ্গ মঞ্চ ।” পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ বছরের মতো সামাজিক সপ্তাহের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



