Barak UpdatesHappeningsBreaking News
কাছাড়ের গ্রাম ডিমা হাসাওয়ে! রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি

ওয়েটুবরাক, ২৩ সেপ্টেম্বর: কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত লক্ষীপুরের সার্কেল অফিসারের কাছে ১৮ আগস্টের এক চিঠিতে কাছাড়ের ১৯টি গ্রামে যথাক্রমে, ডিপু, কুমাছড়া, কালিনগর, জেমব্রু, পুঠাছড়া, হরিনগর, ধর্মনগর, থাইপুঙ্গার, রাইলিঙ, মাসাপ, দলাইছড়া, সোনপুর, কারাবিল, কনকপুর, জয়পুর, ওয়াটিলিং, লাংলাছড়া, লাডুমা, এবং লোদি গ্রামের জনবিন্যাস সম্পর্কে যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিলেন, ওই রিপোর্ট অতিসত্ত্বর জনসমক্ষে আনার জন্য দাবি জানায় স্বাধীন সমাজ, ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি এবং অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন। অন্যথায় এ ব্যাপারে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
তিন সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ডিএইচডি’র দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে গত ৮ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ’র উপস্থিতিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের শর্ত হিসাবে রাজ্যের হাতে ন্যস্ত বেশ কিছু ক্ষমতা ডিমা হাসাও অটোনোমাস কাউন্সিলে হস্তান্তর করার এবং এনসি হিলস কাউন্সিলকে তিনটি প্রশাসনিক ভাগে ভাগ করে ও ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে প্রতিনিধি আসন বৃদ্ধির বিধান রয়েছে। শান্তি চুক্তির শর্ত হিসাবে ডিমা হাসাও অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী ডিমাসা-বসতি অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির দাবি মেনে নেওয়া হয়। নির্দ্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে জনজাতিদের ষষ্ঠ তপশিলিভুক্ত অঞ্চলের সাথে যুক্ত হতে চাওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ডিমা হাসাওয়ের ক্ষমতাবৃদ্ধি ঘটুক এবং জনজাতীয়রা তাদের নিজস্ব স্বশাসন ভোগ করুক।কিন্তু মূল স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাগুলির কোথাও পার্শ্ববর্তী জেলার কোনো অংশকে ডিমা হাসাও ষষ্ঠ তপশিলি এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথার উল্লেখ নেই বলে জানান তাঁরা। বলেন, অথচ বর্তমান অসম সরকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির কিছু অংশ তাতে সংযোজিত করে সংকীর্ণ জনজাতীয় নির্বাচনী রাজনীতির ফায়দা নিতে চাইছে এবং একইসাথে আদানিকে ৩০০০ হাজার বিঘা জমি প্রদান নিয়ে যে বিবাদ হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে সেই আইনি বিবাদকে এড়িয়ে আদানিকে জমি প্রদান সুনিশ্চিত করতে এই সুচতুর কৌশল নিয়েছে বলে সুতরাং কাছাড় জেলার ১৯টি গ্রাম সংযোজিত করার প্রস্তাব জনজাতীয় ও অ-জনজাতীয় সকল বাসিন্দাদেরই স্বার্থের পরিপন্থী।
তিন সংগঠনের বক্তব্য, সরকারের রিপোর্টে কাছাড় জেলার যে ১৯টি গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার অধিকাংশ গ্রামে অ-জনজাতিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। উপরন্তু মিশ্র জনবসতির অঞ্চলকে জনগোষ্ঠীয় পরিচিতির ভিত্তিতে ভেঙে ফেলা সামাজিক মেলামেশা ও ভাবের আদানপ্রদানের মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য গড়ে ওঠার পরিপন্থী।
উল্লেখিত এই ১৯টি গ্রামে চা-শ্রমিক ছাড়াও অসংখ্য অসংগঠিত ফর্মাল সেক্টরের শ্রমিক রয়েছেন যারা ষষ্ঠ তপশীলিভুক্ত কাউন্সিল এলাকায় যাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হবেন, কৃষক ও অন্যান্য অ-জনজাতি বাসিন্দারা জমি ও অন্যান্য অধিকার হারাবেন, মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অধিকার খর্ব হবে। নাগরিকদের অধিকার শুধু সুরক্ষিত করাই নয়, জনগণের অধিকার বৃদ্ধি করা একটি নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব ও কর্তব্য, কিন্তু সরকার তার দায়িত্ব এড়িয়ে এক্ষেত্রে যদি তড়িঘড়ি ১৯টি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রতিরোধের গড়ে তোলা হবে।
স্বাধীন সমাজ, ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি এবং অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন বিভাজনের মাধ্যমে শাসন করার ও জনগণের অধিকার খর্ব করার “এধরনের ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা” থেকে বিরত থাকার জন্য বিজেপি সরকারকে আহ্বান জানায়। কাছাড় জেলা আয়ুক্ত যেভাবে মাত্র দু’দিনের সময় দিয়ে লক্ষীপুর সার্কেল অফিসারকে জনবিন্যাসগত রিপোর্ট দেওয়ার আদেশ করেছেন, তাতে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্বাধীন সমাজের পক্ষ থেকে দেবাশিস রায়, ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে অরিন্দম দেব ও অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে মৃণাল কান্তি সোম এক বিবৃতিতে এই সংবাদ জানান।।



