Barak UpdatesHappeningsBreaking News

এসআরঃ এনআরসির চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা সুস্মিতা দেবের

ওয়েটুবরাক, ২৪ জানুয়ারিঃ অসমে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর হচ্ছে না। যা হচ্ছে, তা একেবারেই এক বার্ষিক প্রক্রিয়া — ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআর। কিন্তু বিজেপি একেই ভোটের বছরে এসআইআর থেকে বেশি আতঙ্কের বিষয় করে তুলেছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব। শুক্রবার তিনি উদ্বেগের সুরে বলেন, পরিস্থিতি এনআরসি-র চেয়ে ভয়াবহ হতে চলেছে। এনআরসিতে নানা ধরনের নথি দেখানোর সুযোগ ছিল, কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম কাটা গেলে তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠাবে। পরে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হবে।

 

তাঁর কথায়, বিজেপি অফিসে বসে বিরোধী ভোটারদের নামের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে সাত নং ফর্মে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছে। অথচ তাদের সকলেই প্রকৃত ভোটার, ভারতীয় নাগরিক। হিন্দুত্বের ধ্বজা ওড়ালেও এই কাজ করতে গিয়ে তারা হিন্দু-মুসলমান দেখেননি। বিরোধী ভোটার হওয়ায় বহু হিন্দুর নামেও আপত্তি জানিয়েছেন এরা।

 

মাছুঘাটের ২২ জনকে সামনে বসিয়ে সুস্মিতা জানান, তাঁদের সকলের নামে আপত্তি জানিয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতা তথা জিপি-র গ্রুপ সদস্যের প্রতিনিধি মোহনলাল দাস। তাঁর আপত্তির কারণ, এঁরা নাকি ওই এলাকায় থাকেন না। অথচ প্রতিটি মানুষ মাছুঘাটের স্থায়ী বাসিন্দা, মোহনলালেরও পরিচিত। এই ধরনের বহু ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন।

 

ভোটার তালিকার দাবি-আপত্তির ওপর শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ করে তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল দাবি-আপত্তির শেষদিন। এগুলির ওপর শুনানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রে ১৫,৩০৪ জনের নামে আপত্তি দর্শিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার আর্জি জানানো হয়েছে। একই ভাবে কাটিগড়ায় আপত্তি করা হয়েছে ৯৬৭১ জনের নামে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে এ ভাবে প্রচুর পরিমাণে আপত্তি দাখিলের দরুন সুস্মিতার আশঙ্কা, মাত্র এগারোদিনের স্বল্প সময়সীমায় যাদের নামে আপত্তি করা হয়েছে, তাদের সকলের কাছে নোটিশ পৌছানো কোনওমতেই সম্ভব নয়। আর তখনই বিনা শুনানিতে নাম বাদ দেওয়া শুরু হবে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে শুধু ভোটাধিকার যাবে, তাই নয়, নাগরিকত্বও প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়াবে।

 

বিজেপি-কে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা আপত্তি না দর্শালে স্থানে স্থানে যে হিন্দুদের নাম কাটা পড়ছে, তাঁদের পাশে এসে তাঁরা দাঁড়াচ্ছেন না কেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবের আরও যুক্তি, এসআর বা এসআইআরের প্রয়োজনই নেই অসমে। কারণ এখানে এনআরসি তৈরি করা হয়েছে, আগেই নাগরিকত্ব নিরূপণ করা হয়েছে। এনআরসি প্রকাশ করা না হলেও রেজিস্ট্রার জেনারেল এনআরসির তথ্যগুলিকে খারিজ করেনি। ফলে এনআরসিতে যাদের নাম রয়েছে, তাদের ভোটার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না। এমনকী যে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম এনআরসিতে নেই, তাদের নামও এই সময়ে কাটা যায় না। কারণ সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, রিজেকশন স্লিপ ইস্যু করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

 

সাংবাদিকদের সুস্মিতা জানান, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নং ধারায় মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য শাস্তির সংস্থান রয়েছে। তাই তিনি মাছুঘাটে ভোগান্তির শিকার জনতাকে অভিযোগকারী মোহনলাল দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তারা এফআইআর নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ রাজ্যের বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “ক্ষমতা থাকলে এসআর বাদ দিয়ে ভোট লড়ে জিতে আসুন।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker