Barak UpdatesHappeningsBreaking News

সঞ্জীব দেবলস্কর ও আবিদ রাজা মজুমদারকে বরাক এডুকেশন সোসাইটির স্মারক সম্মাননা

ওয়েটুবরাক, ৮ ফেব্রুয়ারি: শিক্ষাকে আরো সুদূর প্রসারী করে নিতে প্রাথমিক স্তরের সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের ভিত মজবুত করে তুলতে হবে। রবিবার বঙ্গভবনে বরাক এডুকেশন সোসাইটি আয়োজিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন কালিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ অধ্যাপক মোহাম্মদ বশির কে। তিনি বলেন, যোগ্যতার ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাই অনেক উপরে। কারণ সরকার একটা নির্দিষ্ট মাপকাঠি দিয়ে তাঁদেরকে নিয়োগ করে। কাজেই সরকারি স্কুলের পড়াশোনাকে ভিত্তি করে গড়ে তোলা হলে ব্যাপকভাবে শিক্ষার সামগ্রিক প্রচার ও প্রসার হবে বলে মনে করেন তিনি। এবিষয়ে বরাক এডুকেশন সোসাইটি সহ উপস্থিত বিদগ্ধদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অধ্যাপক বশির।

সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক অশোক সেনের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত এদিনের অনুষ্ঠানে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ স্মারক সম্মাননায় (২০২৪) সম্মানিত হন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্কর। তাঁকে বিশেষ উত্তরীয় পরিয়ে দেন সোসাইটির সচিব লালমিয়া লস্কর, শাল পরিয়ে দেন সমন্বয়ক ড০ আবুল হাসান চৌধুরী, উপহার তুলে দেন জাকারিয়া বড়ভূঁইয়া, মানপত্র পাঠ করেন আইনজীবী মাহমুদ হোসেন মজুমদার, সেটি তুলে দেন আইনজীবী তাজ উদ্দিন লস্কর এবং মাওলানা আজাদ স্মারক সম্মাননা তাঁর হাতে তুলে দিয়ে সম্মানিত করেন অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি অধ্যাপক মোহাম্মদ বশির কে এবং অধ্যাপক অশোক সেন।

পরে বরাকের পরিচিত সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদরাজা মজুমদারের হাতে সৈয়দ মুজতবা আলি স্মারক সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বিশেষ উত্তরীয় পরিয়ে দেন নজরুল হক লস্কর, শাল পরিয়ে দেন ড০ আয়েশা আফসানা লস্কর, উপহার তুলে দেন রাগীব হোসেন চৌধুরী, মানপত্র পাঠ করে সেটি তুলে দেন আবুল হোসেন লস্কর এবং সৈয়দ মুজতবা স্মারক সম্মাননা তুলে দেন মুখ্য অতিথি অধ্যাপক মোহাম্মদ বশির কে, অধ্যাপক অশোক সেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডিসি-র অবসরপ্রাপ্ত সঞ্চালক ড০ বিভাসরঞ্জন চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা আজাদ স্মারক বক্তৃতা উপস্থাপন করেন দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ পত্রিকার কর্ণধার তৈমুর রাজা চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে মওলানা আজাদের বাল্যকাল থেকে কর্মজীবনের বিভিন্ন সংবাদপত্র সম্পাদনা, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে তাঁর অবদানের নানা দিক তুলে ধরেন। তাঁকে ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহীরুহ হিসেবে বর্ণনা করেন। সৈয়দ মুজতবা আলি স্মারক বক্তৃতায় ড০ বিভাস রঞ্জন চৌধুরী বলেন, বহু ভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলির পান্ডিত্য ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে মুজতবার পূর্ণতা বিষয়ে উপস্থাপন করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সৈয়দ মুজতবা বর্তমানকালে অতি প্রাসঙ্গিক বলে বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পারদর্শীতার জন্য ড০ এপিজে আব্দুল কালাম রিসার্চ মেডেল ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বিশ্বের প্রথম সারির দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে ড০ শুভদীপ রায়চৌধুরীকে মেডেল ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। শুভদীপের হয়ে সেটি গ্রহণ করেন তাঁরই সহধর্মিণী আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডাঃ শতভিষা রায়চৌধুরী। সেটি তুলে দেন জামিল আহমেদ বড়ভূঁইয়া। সোসিওলোজিতে পোস্ট ডক্টরেট রিসার্চের জন্য ড০ আয়েশা আফসানাকে মেডেল ও সার্টিফিকেট তুলে দেন ইকবাল বাহার লস্কর, গণজ্ঞাপন বিভাগে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে ড০ লায়লী বেগম বড়ভূঁইয়াকে মেডেল ও সংশাপত্র দিয়ে সম্মানিত করেন মাহমুদ হাসান মজুমদার। একইভাবে লাইফ সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ড০ শামিম সুলতানা চৌধুরীর হাতে মেডেল ও সংশাপত্র তুলে দেন আবুল হোসেন লস্কর। এছাড়া ড০ বেলায়েত হোসেন মজুমদার, ড০ বাহারুল ইসলাম লস্কর ও তাহমিনা বেগম লস্করকে অনুরূপভাবে মেডেল ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন লালমিয়া লস্কর, ধন্যবাদ সুচক বক্তব্য রাখেন জামিল আহমেদ বড়ভূঁইয়া। এদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মিলন উদ্দিন লস্কর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker