Barak UpdatesHappeningsBreaking News
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় উত্তর পূর্বের বাঙালি প্রতিনিধি দাবি বিডিএফের

ওয়েটুবরাক, ১৩ ফেব্রুয়ারি: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আসাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফরের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের একজন বাঙালি সাংসদকে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)।
এক প্রেসবার্তায় বিডিএফের মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, বিজেপি দলকে প্রায়ই বাঙালিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্বের প্রশংসা ও সম্মান জানাতে দেখা যায়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ বন্দেমাতরম’ নিয়ে বিজেপি দলের উন্মাদনা উল্লেখযোগ্য। রবীন্দ্রনাথকে প্রায়ই তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এর বিপরীতে উত্তর-পূর্ব তথা অসমে বাঙালিদের অনুন্নয়ন, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিরন্তর অবহেলা এসব নিয়ে রাজ্য তথা কেন্দ্রের নেতাদের নীরব ভূমিকা রহস্যজনক। প্রদীপ দত্তরায় বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে কোনও একজন বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির রেওয়াজ ছিল। অরুণকুমার চন্দ, মঈনুল হক চৌধুরী, রসিদা হক চৌধুরী, সন্তোষ মোহন দেব, কবীন্দ্র পুরকায়স্থ সহ অনেকে এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। দত্তরায় এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, যখন ছিন্নমূল উদ্বাস্তুরা বৃহৎ সংখ্যায় এই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হন তখন তাঁদের তৎকালীন দূরবস্থার সমাধানে কেন্দ্রীয় স্তরে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের একটি অলিখিত চুক্তি হয়েছিল। সেই সময় থেকে এখন অব্দি উত্তর-পূর্বের বাঙালিদের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয়নি। অথচ গত একদশক ধরে এই অঞ্চলের কোনও বাঙালি সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়া হয়নি। তাই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিন্তাভাবনা করার আহ্বান জানাচ্ছে বিডিএফ।
বরাক উপত্যকা থেকে বর্তমানে তিনজন নির্বাচিত সাংসদ রয়েছেন। তাই তাঁদের থেকে কোনও একজনকে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তাঁরা।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন, যদি অসমের বাঙালি হিন্দুদের কথাই ধরা হয় তবে গত দশ বছরের বিজেপি শাসনে তাঁদের অবস্থার বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি। এখনও বাঙালি হিন্দুদের ডি ভোটারের সমস্যা রয়েছে। অনেকের মামলা চলছে ট্রাইব্যুনালে। এনআরসিতে বাদ পড়া আনুমানিক ছয়-সাত লক্ষ বাঙালি হিন্দুদের নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেই। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ বাঙালি হিন্দু। অথচ উপত্যকার ১১১টি বিধানসভা আসনে বাঙালি হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব নগণ্য। এবার তাই রাজ্যের ১০টি বিধানসভা আসনে বিজেপি দলের পক্ষ থেকে বাঙালি হিন্দু প্রার্থী দেবার দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের বাঙালি সংগঠকরা। জয়দীপ বলেন, বরাক উপত্যকার মূল সমস্যা হচ্ছে বন্যা, যোগাযোগ ও বেকারত্ব। কিন্তু এই তিন সমস্যা সমাধানে গত এক দশকে শাসক দলের ভূমিকা মোটেই সন্তোষজনক নয়। বিকল্প রেললাইন, বিকল্প সড়ক, বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণ, শিল্পোদ্যোগ স্থাপন, সরকারি চাকরিতে স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষণ, যুবক-যুবতীদের পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কোনও কিছুতেই অগ্রগতি হয়নি। উপত্যকার চা শিল্প ও কৃষির উন্নয়নে কোনও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই। বরাকের বন্যা প্রতিরোধে নদী খনন সহ শহরের খালগুলির সংস্কার যা জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা জরুরি ছিল, সেসব কিছুই হয়নি।
বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।



