Barak UpdatesAnalyticsBreaking News
উদ্যোক্তা হতে ‘না’ নেই এতদঅঞ্চলের শিক্ষার্থীদের, চাই শুধু সরকারি নীতি
স্টার্ট-আপে পিছিয়ে কেন উত্তর-পূর্ব, গবেষণা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের

ওয়ে টু বরাক, ৮ জুন: বর্তমানে যুবাদের মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ও একটি উন্নত মানের ব্যবসা তৈরি করার প্রতিযোগিতা চলছে। দেশজুড়ে এই পরিবর্তন আনার অন্যতম চালিকা শক্তি বর্তমান এনডিএ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। এই সরকারের উদ্যোগে ‘স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ইত্যাদি অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুবাদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আইআইটি ও আইআইএম-এ ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত পরিকাঠামোর জন্য দেশ উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে এক ধাপ এগিয়েছে।
বর্তমানে ভারত ১০০টিরও বেশি ইউনিকর্ন সহ তৃতীয় বৃহত্তম উদ্যোক্তা বাস্তুতন্ত্রের কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর অবদানও নেহাৎ কম নয়। ২০২৩ সালের সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, মহারাষ্ট্রে ৫৮০০-এরও বেশি স্টার্ট-আপ কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও কর্নাটকের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৪০০, ৩২০০ ও ৩০০০টি। কিন্তু তুলনামূলক ভাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

একই সময়ে অসম মাত্র ৩৬২টি স্টার্ট-আপ নথিভুক্ত করতে পেরেছে। প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কেন উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি, বিশেষ করে অসম অন্যান্য রাজ্য থেকে পিছিয়ে? এখানকার যুবাদের মধ্যে কি উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছের অভাব রয়েছে? তারই কারণ খুঁজল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য প্রশাসন বিভাগ। এই বিভাগের গবেষক ভাবনা বরদিয়া দক্ষিণ-অসমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা অধ্যয়নের জন্য গবেষণা করেন। তাঁর এই গবেষণার তত্বাবধায়ক ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. অমিত কুমার দাস।
ভাবনা তাঁর গবেষণা পর্বে এতদঅঞ্চলের স্নাতকোত্তর কোর্স অফারকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের ৩১০ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি সমীক্ষা চালান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উদ্দেশ্যকে চিহ্নিত করতে মোট পাঁচটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা হতে মাঝারিভাবে আগ্রহী। উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘উচ্চ মাত্রায় লক্ষ্যে’র অভাব রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিকটি হল যে. উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। এই অনুসন্ধান এতদঅঞ্চলে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা তৈরির একটি বড় লক্ষণ। যেখানে এ অঞ্চলে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য উদ্যোক্তার ইতিহাসও নেই।
গবেষণায় আরও প্রকাশিত, সরকার যখন ক্রমহ্রাসমান কর্মসংস্থানের হার মোকাবেলায় উদ্যোক্তা বিকাশের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন উদ্বেগের বিষয় হল, নিম্ন আর্থ-সামাজিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার তেমন কোনও মনোভাবই নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদেরই ক্যারিয়ারের বিকল্প হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি ঝোঁক রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আর্থিক চাপ এবং দায়িত্বের কারণেই তারা চাকরির সন্ধান করতে বেশি পছন্দ করেন। পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা, পরামর্শদাতা ও মূলধনের অভাবই তাদের আরও বেশি দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলে।
এই গবেষণায় মনোভাব ও কাঠামোগত বাধা দূর করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে সাকার করার জন্য সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাই প্রকাশ পেয়েছে। যাতে সমাজের এই নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন সাকার করা যেতে পারে।



