NE UpdatesAnalyticsBreaking News

জুবিন গার্গের স্বপ্নের খারঘুলির বাড়ি ট্রাস্টকে হস্তান্তর করা হবে : গরিমা

গুয়াহাটি, ২ জানুয়ারি : জুবিন গার্গকে চিরস্মরণীয় করে রাখার প্রথম পদক্ষেপ। গঠিত হলো ‘জুবিন গার্গ ট্রাস্ট’। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে জুবিন গার্গের স্বপ্নের বাড়ি খারঘুলির বাসভবনটিও ট্রাস্টের নামে হস্তান্তর করা হবে। শুক্রবার কাহিলিপাড়ার বাসভবনে এক সংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান তাঁর স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গ।

সংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জুবিনের স্ত্রী বলেন, “সমাজ, সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং নতুন প্রজন্মের কল্যাণের জন্য জুবিন গার্গ বহু স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেগুলোর জন্য নিরন্তর কাজ করে গেছেন। তাঁর সেই চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে, মানুষের সহযোগিতা ও অভিভাবকত্বের প্রত্যাশায় জুবিন গার্গের নামে একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। পরিবার,  আত্মীয়স্বজন এবং অগ্রজ-অনুজ ভাই-বন্ধুদের সহায়তা ও পরামর্শে আমরা এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছি।”

এই ঘোষণা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে গরিমা শইকীয়া গার্গ বলেন, “এই ট্রাস্টের মাধ্যমে জুবিন গার্গের আদর্শ অনুসরণ করেই তাঁর প্রিয় প্রকৃতি, মানুষ, সমাজ, সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা কাজ করে যাব। এই পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে খারঘুলিতে আমাদের যে সম্পত্তি রয়েছে, সেটি এই উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে চাই। আমাদের আশা, জুবিন গার্গের স্বপ্নের এই বাড়ি থেকেই তাঁর আদর্শ ও দর্শনকে জীবিত রাখার জন্য কিছু ভালো কাজ শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুবিন গার্গ যেভাবে কাজ করে গেছেন, ঠিক সেভাবেই এই ট্রাস্ট ‘কলাগুরু আর্টিস্ট ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাজ করে যাবে। শিল্পী তাঁর বোনের নামে যে ‘অভিনয়া: জংকি বরঠাকুর পারফর্মিং আর্টস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন, তার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, জুবিন গার্গের যে বৌদ্ধিক উত্তরাধিকার বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ সংরক্ষণের জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুবিন গার্গের জীবন ও কর্ম, তাঁর কৃতি ও কৃতিত্ব এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক অবদান নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগতভাবে চর্চা করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ গবেষণা শাখা বা ডেডিকেটেড রিসার্চ উইং গঠন করা হবে, যা নিয়মিতভাবে শিল্পীকে নিয়ে বৌদ্ধিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।”

এই যাত্রায় কারা যুক্ত আছেন সে সম্পর্কে তিনি বলেন, “জুবিন গার্গের স্কুলজীবনের বহু বন্ধু, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের পাশাপাশি রাজ্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক ও সংবাদ জগতের অনেক অগ্রজ-অনুজ ভাই-বন্ধুর সহযোগিতায় আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। জুবিন গার্গ যাদের তাঁর ‘সেনাবাহিনী’ বলে ডাকতেন, সেই ‘জুবিন ফ্যান ক্লাব’ও এই পরিকল্পনার সহযাত্রী।”

গরিমা গার্গ আরও বলেন, “অনেক দুঃখের ভার নিয়ে, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। প্রয়োজনীয় কাজ ও সহযোগিতার মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। ন্যায়প্রক্রিয়ায় আমরা সততার সঙ্গে এগোলে আমরা যেভাবে চাই, সেভাবেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। ‘আমাকে মনে রাখার চেয়ে আমার সৃষ্টি আর কাজকে মনে রাখলে আমি বেশি খুশি হব’, এটাই জুবিন বলতেন। জীবনের ঝড়ঝাপটায় জুবিন অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন।”

অপেক্ষা ও সরকারের পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “জুবিনের শেষ ছবিটির রাজ্য কর বাবদ ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা কলাগুরুকে হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, জুবিনের ন্যায়প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও দ্রুততর করার জন্য সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ এবং বিশেষ আদালতের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হবে বলে নববর্ষের প্রথম দিন মুখ্যমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেন, তার জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

সংবাদ সম্মেলনে জুবিনের বোন পামি বরঠাকুরও উপস্থিত ছিলেন এবং জুবিন গার্গ ট্রাস্ট সম্পর্কে মতামত দেন। উল্লেখ্য, জুবিন গার্গ ট্রাস্ট পরিচালনা করবেন তাঁর কাকা মনোজ বরঠাকুর। পরিচালনায় সহায়তা করবেন গৌতম শর্মা ও পার্থসারথি মহন্ত। এছাড়া ট্রাস্টে কারা কারা থাকবেন, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker